“বুক কাঁপলে আজ রাস্তায় বেরোবেন না”- রামনবমী তে ফের ‘চমকালেন’ দিলীপ ঘোষ

গত এক-দু’সপ্তাহ ধরেই তাঁর কণ্ঠে শোনা যাচ্ছিল তীব্র হুঙ্কার। ‘রামনবমীতে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে মাড়িয়ে চলে যাবে’—এই ধরনের হুঁশিয়ারি ভেসে আসছিল রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষের মুখ থেকে। রবিবার রামনবমীর দিনে তাঁর ভূমিকা ঠিক কী হবে, সেই দিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের একাংশের। ২০২৩ সালে খড়্গপুরে হাতে গদা নিয়ে মিছিল করেছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের রামনবমী কেটেছিল লোকসভা ভোটের আবহে। আর বিধানসভা নির্বাচনের এক বছর আগে ‘ঘরের মাঠ’ মেদিনীপুরে রামনবমীর সকালে বুলেট হাঁকিয়ে মিছিল করলেন দিলীপ ঘোষ। মাথায় গেরুয়া পাগড়ি, চোখে কালো সানগ্লাস—রাজ্য বিজেপির এই প্রাক্তন সভাপতির এই নতুন রূপ কি রাজনীতিতে তাঁর ঝাঁঝালো ‘কামব্যাক’-এর ইঙ্গিত? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দলের ভিতরে-বাইরে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর থেকে সরিয়ে অচেনা মাঠে খেলতে পাঠানো হয়েছিল দিলীপ ঘোষকে। কিন্তু সেখানে জনতা তাঁকে ‘ক্লিন বোল্ড’ করে দেয়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে বঙ্গ বিজেপির রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে তিনি সরে যাচ্ছিলেন। তবে যখন রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি ঘোষণার জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় ফের চাঙ্গা মেজাজে দেখা গেল দিলীপ ঘোষকে। রামনবমীর আগে থেকেই তিনি নরমে-গরমে বিভিন্ন বার্তা দিচ্ছিলেন।’

রবিবার সকালে গোপনন্দিনী মন্দিরে রামনবমীর পুজোতে অংশ নেওয়ার পর বুলেট মোটরসাইকেল চালিয়ে মেদিনীপুর সদর ব্লকের ধেড়ুয়া বাজারে পৌঁছান দিলীপ ঘোষ। তবে তার আগে মর্নিং ওয়াকের সময়ও তিনি একপ্রকার হুঙ্কার ছাড়েন। তিনি বলেন, “জয় শ্রীরাম বললে যাঁদের বুক দুড়দুড় করে, তাঁরা আজ রাস্তায় বার হবেন না। হার্ট অ্যাটাক করতে পারে। কারণ সারা সমাজ আজ জয় শ্রীরাম বলছে। আর তা প্রতি বছর বাড়ছে। সবটাই রামের ইচ্ছেতেই হচ্ছে, হবেও।”

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের কটাক্ষ, “ওঁর কথাবার্তা নিয়ে তো তাঁরই দলকে অতীতে বহুবার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে। একাধিক উদাহরণ রয়েছে। এখন তিনি দলের কোনও পদে নেই। তাই শুধুমাত্র লাইমলাইটে থাকার জন্যই তিনি এই ধরনের কথা বলছেন। তাঁর জন্য সহানুভূতি রইল।”

দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক সুজয় হাজরা। তিনি বলেন, “দিলীপ ঘোষ হয়তো জানেন না, মেদিনীপুর শহরে রামনবমীর সবথেকে বড় শোভাযাত্রা যারা বের করে, সেই ক্লাবের (সুভাষ সঙ্ঘ ব্যায়ামাগার)-এর সভাপতি তৃণমূলের জেলা সভাপতি। তিনি রাজনীতিতে আসার অনেক আগে থেকেই মেদিনীপুরে রামনবমী পালিত হচ্ছে। রামনবমী পালনের জন্য বিজেপি বা আরএসএস করার কোনও প্রয়োজন নেই। রাম মানুষের অন্তরে বিরাজ করেন।”

দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি পিংলার বিধায়ক তথা জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি অজিত মাইতিও। তিনি বলেন, “রাম কি দিলীপবাবুর পৈত্রিক সম্পত্তি? বাংলার শান্তিপ্রিয় মানুষ বহু আগে থেকে রামনাম জপ করছেন। আজও করেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। বরং এই পবিত্র উৎসব নিয়ে যাঁরা অশান্তি বাধানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের অচিরেই বিনাশ হবে।”

দিলীপ ঘোষের রামনবমীর দিনের এই সক্রিয়তা এবং ঝাঁঝালো মন্তব্য দলের অন্দরে ও বাইরে আলোচনার ঝড় তুলেছে। রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতির দৌড়ে কি তিনি নিজেকে আরও একবার প্রাসঙ্গিক করে তুলতে চাইলেন? নাকি এটা শুধুমাত্রই তাঁর ব্যক্তিগত ভাবাবেগের বহিঃপ্রকাশ? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ের সঙ্গেই স্পষ্ট হবে।