“মাথার উপর ২০ লক্ষ টাকার লোন”-‘আমাদের কথা একটু ভাবুন’-আর্জি শিক্ষক দম্পতির

স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই ছিলেন হাইস্কুলের শিক্ষক। ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলে চাকরিও পেয়েছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই গোটা প্যানেল বাতিল হয়ে যাওয়ায় রাতারাতি চাকরি খুইয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার ভুঁইয়া দম্পতি। শুধু তাই নয়, জমি কিনে বাড়ি তৈরির জন্য নেওয়া ২০ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝা এখন তাদের মাথায়। সেই টাকা কীভাবে মেটাবেন, তা ভেবে দিশেহারা শান্তিনাথ ভুঁইয়া এবং তাঁর স্ত্রী রুবি চোংদার ভুঁইয়া।

তাদের বাড়ি চন্দ্রকোনা দু’নম্বর ব্লকের ধামকুড়া গ্রামে। ২০১৬ সালের এসএলএসটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ইন্টারভিউ ও কাউন্সেলিং শেষে ২০১৯ সালে একসঙ্গে শিক্ষকতার চাকরি পান শান্তিনাথ ও রুবি। কিন্তু এক মুহূর্তে সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। দু’জনের বাড়িতেই রয়েছেন প্রবীণ বাবা-মা। স্বামী-স্ত্রীর সার্ভিস লোনের পরিমাণ প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। পরিবারের দুই উপার্জনক্ষম সদস্যের চাকরি যাওয়ায় তাদের বাড়িতে এখন কান্নার রোল।

২০১৮ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর শান্তিনাথ যোগ দেন হুগলির শ্যামবাজার গোপালচন্দ্র সেন হাইস্কুলে জীববিদ্যার শিক্ষক হিসেবে। একই বছর রুবি হুগলির গোঘাট ভগবতী বালিকা বিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান পড়াতে শুরু করেন। ২০১৯ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন তারা। তাদের একটি পাঁচ বছরের পুত্রসন্তানও রয়েছে। মাথার উপর নিজস্ব ছাদ না থাকায় একটি জমি কিনেছিলেন এবং সেখানে বাড়ি তৈরির পরিকল্পনাও করছিলেন।

কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে তাদের দুজনেরই চাকরি বাতিল হয়ে যাওয়ায় সব পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে। শান্তিনাথের প্রশ্ন, ‘আমরা তো যোগ্যতার নিরিখে চাকরি পেয়েছিলাম। অবৈধ প্রার্থীদের তো সুপ্রিম কোর্ট চিহ্নিত করেছে এবং তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাহলে কেন আমাদের চাকরি কেড়ে নেওয়া হলো? মাধ্যমিক থেকে এমএসসি পর্যন্ত আমার সব পরীক্ষাতেই প্রথম বিভাগ ছিল। এখন ফের পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাওয়া কি আদৌ সম্ভব?’ কথাগুলো বলার সময় শান্তিনাথের চোখে জল চিকচিক করছিল।

রান্নাঘরে সবজি কাটছিলেন স্ত্রী রুবি। স্বামীর চোখের জল দেখে ছুটে এসে পাশে দাঁড়ান তিনি। রুবি বলেন, ‘আমার বাবা-মা এবং শ্বশুর-শাশুড়ি সকলেই অসুস্থ। তার উপর ৫ বছরের ছেলে রয়েছে। মাথার উপর এত বড় ঋণের বোঝা! হঠাৎ করে এই নির্দেশে আমাদের মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়েছে।’ এই অসহায় দম্পতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়ার কাতর আর্জি জানিয়েছেন। তাদের একটাই প্রশ্ন, যোগ্য হয়েও কেন তারা আজ কর্মহীন এবং ঋণের জালে আবদ্ধ?