লোন দেয়নি ব্যাঙ্ক! ‘মানি হাইস্ট’ ওয়েব সিরিজ দেখে SBI থেকে ১৩কোটির সোনা লুট করলো যুবক

ব্যবসার জন্য ঋণ চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর, স্পেনীয় ওয়েব সিরিজ ‘মানি হাইস্ট’ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে কর্ণাটকের এসবিআই ব্যাঙ্কে ডাকাতির ঘটনা ঘটালেন এক যুবক। তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ের বাসিন্দা বিজয় কুমার এই অপরাধের মূল চক্রী বলে পুলিশের তদন্তে জানা গেছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসে কর্ণাটকের নিয়ামতির দাভানাগেরে জেলার এসবিআই শাখায় ডাকাতি হয়েছিল। পাঁচ মাস ধরে তদন্তের পর পুলিশ জানতে পারে, বিজয় কুমার ‘মানি হাইস্ট’ সিরিজ ১৫ বার দেখেছিলেন এবং ব্যাঙ্ক ডাকাতির বিভিন্ন তথ্যচিত্র ও ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমেও তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এর পরই তিনি ও তাঁর সহযোগীরা স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার একটি শাখায় ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।

২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর রাতে এই ডাকাতি সংঘটিত হয়। অভিযুক্তরা ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে ছয় মাস ধরে রেকি করেন। তারা দিনের বেলায় ও রাতে ব্যাঙ্কের আশপাশে নজরদারি চালায় এবং বিশেষত সপ্তাহান্তে বা সরকারি ছুটির দিনে, যখন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকত, তখন তারা নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করত।

ব্যাঙ্কে হানা দিয়ে অভিযুক্তরা ১৭.৭ কেজি সোনা লুট করেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা। ডাকাতির পর লুট করা সোনা ৩ কিলোমিটার দূরে পার্ক করা একটি রেনোঁ ডাস্টার গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ ধরে তারা সোনা নিয়ামতি থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সুরাহন্নি গ্রামে একটি এসইউভিতে লুকিয়ে রাখে।

ডাকাতরা এরপর লুট করা সোনা নিয়ে ৭৫০ কিলোমিটার দূরে মাদুরাই চলে যায় এবং বিজয় কুমারের পারিবারিক ফার্মহাউসের পরিত্যক্ত কুয়োয় সেগুলি লুকিয়ে রাখে। পুলিশের অনুসন্ধানী কুকুর যাতে গন্ধের সূত্র না পায়, সে জন্য কুয়োর চারপাশে লঙ্কার গুঁড়ো ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় ছয়জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তাদের কাছ থেকে ১৭ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। দাভানাগেরে পূর্বাঞ্চলের আইজিপি রভিকান্ত গৌডা বলেন, “অভিযুক্তরা কোনো চিহ্ন রেখে যায়নি, তাই মামলাটি সমাধান করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল।”

পুলিশের তদন্তে আরও জানা যায়, বিজয় কুমার এসবিআই নিয়ামতি শাখা থেকে ১৫ লাখ টাকার ঋণের আবেদন করেছিলেন, যা তার বেকারি ব্যবসার জন্য প্রয়োজন ছিল। এছাড়া, তার ভাইয়ের নামেও আরেকটি ঋণের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সিবিল স্কোর কম থাকায় ঋণের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আইজিপি বলেন, “ঋণ প্রত্যাখ্যান হওয়াই বিজয়ের এই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ।”

এই ঘটনা শুধু কর্ণাটক নয়, গোটা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্পেনীয় ওয়েব সিরিজ দেখে ডাকাতির কৌশল আয়ত্ত করা ও বাস্তবে তা প্রয়োগ করার এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। পুলিশি তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।