বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত স্ত্রী! ‘ভার্জিনিটি’ পরীক্ষা করতে চেয়ে আদালতে যুবক, যা বললো হাইকোর্ট

স্ত্রীকে সন্দেহ করে তাঁর ‘ভার্জিনিটি’ পরীক্ষা করানোর দাবি জানিয়েছিলেন এক যুবক। কিন্তু ছত্তীসগড় হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দিল, এ ধরনের পরীক্ষা মহিলার সম্মানের পরিপন্থী। সংবিধানের ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনও মহিলাকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে অপমানজনক পরীক্ষার সম্মুখীন করা যায় না।
২০২৩ সালে বিয়ে হলেও, কিছুদিন পর স্ত্রী স্বামীকে ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যান। তাঁর অভিযোগ, স্বামী অক্ষম, তাই তাঁর সঙ্গে থাকা সম্ভব নয়। সেইসঙ্গে তিনি ভরণপোষণ হিসেবে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন, যা নিয়ে মামলাও চলছে।
এদিকে, স্বামী পাল্টা অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে আবেদন করেন, যাতে আদালত স্ত্রীকে ‘ভার্জিনিটি’ পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। তাঁর দাবি, স্ত্রী বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত থাকতে পারেন।
ছত্তীসগড় হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ভর্মা স্বামীর এই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, “এ ধরনের পরীক্ষা মহিলাদের সম্মানহানির সমান। তাই আদালত এমন নির্দেশ দিতে পারে না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজে নানা পরিবর্তন এলেও, মানুষের মানসিকতা এখনও সেই পুরনো জায়গাতেই রয়ে গেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ এই পুরনো ধ্যানধারণার বিরুদ্ধে এক বড় বার্তা দিল। যেখানে আজও মেয়েদের সতীত্বের পরীক্ষা দিতে হয়, সেখানে এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।