“যাদের টাকা খাইয়েছিল তারা কেউ তো এল না!”-বিস্ফোরক মন্তব্য চন্দ্রকান্ত বণিকের আত্মীয়ের

ঢোলাহাটের বাজি কারখানার ভয়াবহ বিস্ফোরণে একই পরিবারের আটজনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মুখ খুললেন কারখানার মালিক চন্দ্রকান্ত বণিকের এক আত্মীয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানালেন, চন্দ্রকান্ত যদি তার কথা শুনত, তাহলে আজ এই ভয়াবহ পরিণতি দেখতে হতো না।
ওই আত্মীয় জানান, প্রায় দশ বছর আগে যখন তিনি চন্দ্রকান্তের শ্বশুরবাড়িতে যেতেন, তখনই চন্দ্রকান্তের বাবা তথা তার বড় শ্যালক অরবিন্দ বণিককে (প্রয়াত) ছেলের বেআইনি কাজকর্মের বিষয়ে সতর্ক করতেন। তখন চন্দ্রকান্ত লুকিয়ে চুরিয়ে বাজি তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। প্রথম দিকে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো পুজোর জন্য সামান্য বাজি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু পরে জানতে পারেন, চন্দ্রকান্ত এটিকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন এবং ভালো আয়ও করছেন। চন্দ্রকান্তের এই অবৈধ কারবার তিনি মেনে নিতে পারেননি, যার ফলে চন্দ্রকান্ত তার উপর অসন্তুষ্ট ছিল।
তিনি আরও বলেন, “আমি মূর্খ মানুষ, ব্যবসার ঘোরপ্যাঁচ বুঝি না। কিন্তু একদিন আমি আর ওর বাবা চন্দ্রকান্তকে সৎ পথে রোজগারের কথা বলেছিলাম। আমার কথা না শোনার পর থেকে আমি আর ওদের দিকে তাকাইনি। ওদের বাড়িতেও খুব বেশি যেতাম না।”
ওই ব্যক্তি জানান, ২০২২ সালের অক্টোবরে আচমকা পুলিশ এসে চন্দ্রকান্তকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। সেই সময় তার অবৈধ বাজির কারবারও বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ এবং তাকে বেশ কিছুদিন জেল খাটতে হয়েছিল।
জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর চন্দ্রকান্ত তার ভাই তুষারকে সঙ্গে নিয়ে আবারও একই ব্যবসা শুরু করে। তখন চন্দ্রকান্ত তাকে নাকি বলেছিল যে, তারা লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছে। গত তিন বছরে দুই ভাইয়ের ব্যবসা ফুলে ফেঁপে ওঠে। আগে তাদের বাজি শুধু ঢোলাহাট ও পাথরপ্রতিমা এলাকায় পাইকারি বিক্রি হলেও, বর্তমানে রায়দিঘি, মথুরাপুর, মন্দিরবাজার, লক্ষ্মীকান্তপুর, কাকদ্বীপ ও নামখানা এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
ওই আত্মীয় আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শাসকদলের নেতা থেকে শুরু করে পুলিশ পর্যন্ত সকলেই তাদের বাড়িতে আসত। চন্দ্রকান্ত নাকি তাকে বলত, সকলকে টাকা দিতে হতো। মাঝেমধ্যে তাদের বাড়িতে খাওয়া-দাওয়ারও আয়োজন হত এবং সেখানে অনেক পরিচিত মুখকেই তিনি দেখেছেন। তবে আজ এত বড় বিপদের দিনে তাদের কেউই অসহায় পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ায়নি।
আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “আজ যদি আমার মতো মূর্খ মানুষের সৎ উপদেশটা নিত, তাহলে এভাবে পুরো পরিবারটা শেষ হয়ে যেত না।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে চন্দ্রকান্তের বেআইনি কারবার এবং তার পরিণতি নিয়ে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ স্পষ্ট ভাবে ফুটে ওঠে।