“কীভাবে আগুন যারা বলতে পারতেন, তাঁরা কেউ বেঁচে নেই”-জানালেন পুলিশের এডিজি সুপ্রতিম

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা থানার ঢোলাহাটে সোমবার রাতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে একই পরিবারের আটজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারটি শিশু রয়েছে, যাদের বয়স মাত্র ছয় মাস থেকে নয় বছর। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, ওই বাড়িতে অবৈধভাবে আতশবাজি মজুত করা হয়েছিল, যা থেকেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় দশ বছর ধরে ওই বাড়িতে বেআইনিভাবে বাজি তৈরি ও মজুত করার কাজ চলছিল, যা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নজরেও ছিল। ঘটনার পর থেকে বাড়ির মালিক ও তার ভাই পলাতক, যাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, দোতলা বাড়ির ছাদের একাংশ সম্পূর্ণভাবে উড়ে গেছে। ভেতরের সিলিংয়ের বড় অংশ ভেঙে পড়েছে এবং ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে অসংখ্য বাজির খোল।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার জানান, কারখানাটির লাইসেন্স ও অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কীভাবে আগুন লাগল, তা বলার মতো কেউ বেঁচে নেই। তবে প্রাথমিক তদন্তে অবৈধভাবে বাজি মজুতকেই মূল কারণ বলে মনে হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, লোকালয়ে বাজি মজুত ও উৎপাদন বন্ধ করতে পুলিশ বাজি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করে সচেতনতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে।

এডিজি সুপ্রতিম সরকার আরও বলেন, “এই ঘটনায় নির্দিষ্ট মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ২০২২ সালেও এই বাড়ির মালিক চন্দ্রনাথকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। লাইসেন্সের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এবং এর মাশুল পরিবারটিকে দিতে হল।” তিনি বাজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সকলের উদ্দেশ্যে সচেতন থাকার বার্তা দেন এবং লোকালয়ের বাইরে বাজির মজুত করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, বাজি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধ বাজি কারবার বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। পলাতক বাড়ির মালিক ও তার ভাইকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।