খুনের চেষ্টা-সহ ৭ টি ধারায় মামলা রুজু, বিস্ফোরণ নিয়ে NIA তদন্তের দাবি করেছে BJP

গত সোমবার ঢোলাহাটে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক হয়েছেন বাজি কারখানার মালিক চন্দ্রকান্ত বণিক। তার ভাই তুষার বণিকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বিস্ফোরক পদার্থ নিয়ে অবহেলা সহ মোট সাতটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদিও বাজি কারখানার লাইসেন্স বৈধ ছিল, তবে তদন্তকারীরা জানান, গাফিলতি ছিল এবং ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহের কোনো যথাযথ কারণ বাদ পড়েনি।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বারুদের স্তূপে রয়েছে বাংলা। এত বিস্ফোরক পদার্থ সেখানে ছিল, অথচ গোয়েন্দা বিভাগ এর খোঁজ রাখেনি? এর তদন্ত হওয়া উচিত। আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লিখব এনআইএ তদন্তের জন্য।”

এদিকে, মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা। তিনি বলেন, “এখানে এসে আমি ভয়াবহ একটি ঘটনা দেখলাম। বিস্ফোরণে পুরো এলাকা বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। দুই ভাই এবং তাঁদের মা বেঁচে গেছেন, তবে দুর্ভাগ্যক্রমে অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এখন পর্যন্ত জানা গেছে, মোট ১১টি পরিবার ছিল, মৃতের সংখ্যা ৮। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা আসছেন এবং তাদের নিখুঁত রিপোর্ট দেয়ার পরে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।” তিনি আরও জানান, “আমি শুনেছি, এখানে বোমা তৈরি হত, থানার আইসি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কিনা, সেটাও তদন্ত করা হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করছেন, দুই ভাই আগে বিজেপির ঘনিষ্ঠ ছিল এবং বাজি তৈরি করত। তখন পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছিল, কিন্তু পরে তারা জামিন পেয়ে যান। পরে অজ্ঞাত কারণে তারা তৃণমূলে যোগ দেন এবং বাজি কারখানার লাইসেন্স পেয়ে যান। এলাকার বিধায়ক এবং ঢোলাহাট থানার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগও তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এই ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে এবং পুলিশের তরফ থেকে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।