ল্যাম্বরঘিনি দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্ন গাড়ি চালকের “কেউ কি মারা গেছে?” গ্রেপ্তার চালক, গাড়ি বাজেয়াপ্ত

নয়ডা সেক্টর ৯৪-এ রবিবার একটি নির্মাণাধীন ভবনের পাশের ফুটপাতে চলন্ত ল্যাম্বরঘিনির ধাক্কায় দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এক ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেখা যায় যে, গাড়ির চালক শান্তভাবে স্থানীয়দের কাছে জানতে চান, “কেউ মারা গেছে?” ভিডিওটি অনলাইনে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং এতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত চালক দীপক, যিনি আজমেরের বাসিন্দা এবং পুদুচেরিতে রেজিস্টার্ড গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপক দাবি করেন যে, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আহত শ্রমিকদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “আমি নিশ্চিত কিছুই হবে না, সে আদালতকে নিয়ে মশকরা করবে এবং নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যাবে।” অন্য একজন লেখেন, “দেখুন তার ভঙ্গিমা, হাসছে! জানে, তার কিছুই হবে না।”

ভারতে এবং সারা বিশ্বে গাড়ি দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার প্রধান কারণ বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতির মোহ এবং ট্র্যাফিক নিয়মের প্রতি উদাসীনতা। বিশেষ করে বিলাসবহুল এবং স্পোর্টস কার চালকরা অনেক সময় রাস্তার গতি সীমা উপেক্ষা করেন, যা ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, মোবাইল ব্যবহার এবং অযথা ওভারটেক করার প্রবণতা মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

শহরের রাস্তাঘাটের খারাপ অবস্থা, অপরিকল্পিত ট্র্যাফিক ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিষেবার ধীরগতি দুর্ঘটনার মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলছে। ভারতের আইন প্রয়োগের দুর্বলতা এবং অপরাধীদের সহজে ছাড় পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা অনেক চালককে আরও বেপরোয়া করে তুলছে। দুর্ঘটনা রোধ করতে কড়া ট্র্যাফিক আইন, চালকদের জন্য কঠোর প্রশিক্ষণ এবং রাস্তাঘাটের যথাযথ সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।