“PORN সিনেমার শুটিং চলতো বাড়িতে”-গ্রেফতার স্বামী-স্ত্রী , উদ্ধার ১৫.৬৬ কোটি টাকা

নয়ডায় এক চাঞ্চল্যকর পর্নোগ্রাফি চক্রের পর্দাফাঁস করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তে জানা গেছে, এক দম্পতি তাদের বাড়িতে মডেলদের দিয়ে অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সাইপ্রাসের একটি কোম্পানিতে পাঠাতেন। এই ভিডিওগুলো পরবর্তীতে ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্রাপ্তবয়স্ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হতো। ইডি সম্প্রতি ওই দম্পতির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে।
ইডি সূত্রে খবর, এই দম্পতি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে উঠতি মডেলদের খুঁজে বের করতেন এবং তাদের দিয়ে বাড়িতেই অশ্লীল ভিডিওর শুটিং করতেন। এরপর সেই ভিডিওগুলো সাইপ্রাসের টেকনিয়াস লিমিটেড নামক একটি কোম্পানির কাছে পাঠানো হতো। উল্লেখ্য, এই কোম্পানি XHamster এবং Stripchat-এর মতো জনপ্রিয় পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট পরিচালনা করে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এই দম্পতি গত কয়েক বছরে বিদেশ থেকে প্রায় ১৫.৬৬ কোটি টাকা গ্রহণ করেছেন, যা মূলত এই অশ্লীল ভিডিওগুলোর বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। ইডির তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দম্পতি এই আয়ের সিংহভাগ, প্রায় ৭৫ শতাংশ নিজেরাই রেখে দিতেন এবং ভিডিওতে অংশগ্রহণকারী মডেলদের অত্যন্ত কম পারিশ্রমিক দিতেন।
ইডি-র অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, নেদারল্যান্ডসে ওই দম্পতির একটি গোপন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে প্রায় ৭ কোটি টাকা জমা করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ভারতে তুলে নেওয়া হতো।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আরও জানিয়েছে, এই দম্পতি বিজ্ঞাপন এবং বাজার গবেষণার ভুয়ো অজুহাত দেখিয়ে বিদেশ থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আনতেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই অর্থের উৎস ছিল অশ্লীল ভিডিওর ব্যবসা। ইডি মনে করছে, এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন (FEMA)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করা হয়েছে।
তদন্তকারী দল যখন ওই দম্পতির নয়ডার বাড়িতে অভিযান চালায়, তখন সেখানে বেশ কয়েকজন মডেল উপস্থিত ছিলেন। ইডির আধিকারিকরা তাদের বক্তব্যও রেকর্ড করেছেন। এই বিষয়ে আরও গভীর তদন্ত চলছে এবং দম্পতির অন্যান্য আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডি আশা করছে, এই তদন্তের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আরও অনেক তথ্য সামনে আসবে।