মঙ্গল অভিযান নভোচারীর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সতর্ক করলো গবেষকরা

মঙ্গলের ধূলিকণার সংস্পর্শ নভোচারীদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমন একটি নতুন গবেষণায় সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, মঙ্গলগ্রহের ধূলাবালির সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যোগাযোগ নভোচারীদের শারীরিক অবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, যা মহাকাশ অভিযানে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, মঙ্গলগ্রহের ধূলিকণাগুলি চাঁদের মতো অত্যন্ত ধারালো ও ক্ষতিকর না হলেও, এগুলি নভোচারীদের শ্বাসযন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে এবং তাদের শরীরে বিষাক্ত পদার্থ প্রবাহিত করতে পারে। মঙ্গলগ্রহের ধূলিকণার মধ্যে সিলিকা, জিপসাম ও বিভিন্ন ধাতুর উপস্থিতি রয়েছে, যা ফুসফুসে প্রবেশ করে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

চাঁদে অ্যাপোলো মিশনের সময় নভোচারীরা চাঁদের ধূলিকণার সংস্পর্শে এসেছিলেন এবং সেখান থেকে সর্দি, কাশি, চোখে জল ও গলা জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে মঙ্গলে ধূলিকণার ধরন ও গঠন আলাদা হওয়ায়, তা নভোচারীদের জন্য আরও দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, এসব ধূলিকণা মানুষের চুলের প্রস্থের প্রায় ৪০ শতাংশের সমান আকৃতির হয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে, যা শরীরের রক্ত প্রবাহেও মিশে যেতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, মঙ্গলের অভিযানে গিয়ে যদি নভোচারীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে দ্রুত পৃথিবীতে ফিরে আসার সুযোগ কম থাকবে। এমনকি, মহাকাশযান বা রোভারগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ৪০ মিনিটের দেরি হলে চিকিৎসা সহায়তা সরবরাহ করাও কঠিন হবে।

এ কারণে, নভোচারীদের জন্য নিরাপত্তা উপকরণ যেমন এয়ার ফিল্টার, সেলফ-ক্লিনিং স্পেস স্যুট এবং ইলেকট্রোস্ট্যাটিক বিকর্ষণের মতো ডিভাইস প্রয়োজন হবে, যা তাদের ধূলিকণার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে।

গবেষণাটি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল জিওহেলথ এ প্রকাশিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।