“বিজেপি না জিতলে বাংলায় হিন্দু বাঙালিরা থাকবে না”- মিঠুনের মুখে এলো বাংলাদেশের উদাহরণ

হিন্দু ভোট এককাট্টা করতে পারলেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন সম্ভব বলে দাবি করেছেন অভিনেতা তথা বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য মিঠুন চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার নিউ বারাকপুর থানা সংলগ্ন বসন্ত মিলন উৎসবে যোগ দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতির উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের একটা কারণে জিততে হবে। বাংলাদেশ দেখিয়েছে যে… যদি আমরা না জিততে পারি, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে কোনও হিন্দু বাঙালি থাকবে না। আমি আপনাকে বলতে পারি যে আমরা না জিতলে হিন্দু বাঙালিরা টিকতে পারবে না। কারণ তারা প্রস্তুত এবং অপেক্ষা করছে, বলছে যদি তারা আবার জিততে পারে, তাহলে তারা আমাদের শেষ করে দেবে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “এখন প্রার্থীকে জিতিয়ে দিন, দলকে জিতিয়ে দিন। এটাই আমাদের জন্য লাভজনক হবে। এখনও ৯ শতাংশ মানুষ আমাদের ভোট দেয় না। এবার আমাদের ভোট দিন, এটা অস্তিত্বের লড়াই।”
মিঠুনের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “বাংলাদেশের কথা তুলে বাংলায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। ধর্মের ভিত্তিতে সমাজ বিভাজনের চেষ্টা চলছে। মিঠুন এই কথা মুম্বইয়ে গিয়ে বলতে পারবেন? বাংলাদেশের কথা বলে এই রাজ্যে অশান্তির চেষ্টা হলে তা এ রাজ্যের মানুষ সহ্য করবে না।”
এদিকে, হিন্দু ভোট এককাট্টা করতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছে বিজেপি। কলকাতার পাশাপাশি একাধিক জেলা ও শহরতলিতে ‘হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই’ পোস্টার দেখা গেছে। বিধানসভা ভোটের আগে হিন্দু ঐক্যের বার্তা স্পষ্ট। এছাড়াও, রামনবমী ও হনুমান জয়ন্তীকে কাজে লাগাতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য বিজেপি। নেতারা দাবি করেছেন, এবার রামনবমী বড় করে পালিত হবে। আগামী ৬ এপ্রিল অন্তত ১ কোটি মানুষকে পথে নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এই প্রসঙ্গে আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “রামনবমীর দিন অস্ত্র নিয়ে বেরোব আমরা। খড়গপুরের ট্রেডিশন আছে আখড়া বেরোবে আর সেখানে অস্ত্র থাকবে। ব্রিটিশরাও বন্ধ করতে পারেনি, পাঠানরাও বন্ধ করতে পারেনি, যদি এনারা বন্ধ করতে যান তাহলে এদেরও ছুঁড়ে ফেলা হবে।” তাঁর এই মন্তব্যও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী ভোটে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি তীব্র হতে পারে। তবে, এই কৌশল কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা সময়ই বলবে।