মায়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আতঙ্ক, একাধিক ধ্বংসের ছবি সামনে আসছে

মায়ানমারে রিখটার স্কেল ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর একের পর এক ধ্বংসের ছবি সামনে এসেছে। একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়ার ভিডিওগুলো এমনভাবে ধারণ করা হয়েছে, যেন সেগুলি ধুলো-বালি দিয়ে তৈরি খেলনা বাড়ি। সন্ধ্যা বেলা পর্যন্ত ভূমিকম্পের ধাক্কা অব্যাহত ছিল, যা জনগণের মধ্যে ভয় ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

ভূমিকম্পের পর পর পর ৭টি ধাক্কা
ভূমিকম্পের পর একের পর এক মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। প্রথমে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আসে, তারপর ৭.০, ৫.০, ৪.৯, ৪.৪, ৪.৩, এবং ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প একের পর এক আছড়ে পড়ে। এসব ভূমিকম্পের ধাক্কা মায়ানমারের পাশাপাশি ব্যাংককেও ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি করে, যার ফলে ব্যাংকগুলিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হয়। ঘটনা পরবর্তী সময়ে, স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার কেনাবেচাও বন্ধ হয়ে যায়।

রেল লাইনে ভয়াবহ দৃশ্য
ভূমিকম্পের এক মর্মান্তিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে একটি ট্রেন রেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় থরথর করে কাঁপছে। এই ভিডিওটি দেখতে দেখে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। উত্তর থাইল্যান্ডে ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, সেখানে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কর্তৃপক্ষ পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেয়।

সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় প্রভাব
মায়ানমারের উপকূলীয় এলাকাগুলিতেও ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে, যেখানে সমুদ্র, নদী এবং পুকুরে বড় বড় ঢেউ দেখা যায়। এই পরিস্থিতি আরও বেশি আতঙ্ক তৈরি করে।

ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলিতে অনুভূত কম্পন
মায়ানমারের এই মারাত্মক ভূমিকম্পের কম্পন কলকাতা এবং ইম্ফল সহ ভারতের বেশ কয়েকটি শহরেও অনুভূত হয়। আতঙ্কিত জনগণ দ্রুত নিরাপদ জায়গায় চলে যায়, কিন্তু ভূমিকম্পের পরবর্তী ধাক্কাগুলির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে।

মায়ানমারকে সাহায্যের প্রস্তাব
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মায়ানমারে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর প্রকাশ করেছেন যে তিনি উদ্বিগ্ন। মোদী টুইটে বলেছেন, “মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডের ভূমিকম্পের পরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমি তাদের সকলের নিরাপত্তা এবং সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি। ভারত সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত।” তিনি আরও জানিয়েছেন, “বিদেশ মন্ত্রককে মায়ানমার এবং থাইল্যান্ড সরকারের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডের পাশে ভারত
সারা পৃথিবী থেকে মায়ানমারের সাহায্যের আবেদন এসেছে। ভারত, থাইল্যান্ড, এবং মায়ানমার সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।