মায়ানমারে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প, বহু বিল্ডিং ধ্বংস, মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

আজ শুক্রবার মায়ানমারে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যা দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ভূমিকম্পের প্রভাব শুধু মায়ানমারে নয়, ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ভূমিকম্পগুলির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.৭ এবং ৬.৪।

প্রথম ভূমিকম্পটি ভারতীয় সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ঘটেছিল, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মায়ানমারের বার্মার ১২ কিলোমিটার উত্তরে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ঘটেছিল ১২টা ২ মিনিট নাগাদ, যার কেন্দ্র ছিল মায়ানমারের লকসকের ১৫১ কিলোমিটার পশ্চিমে। ইউএসজিএস অনুসারে, এই ভূমিকম্পটি মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হেনেছে।

প্রথম ভূমিকম্পের পর, কিছু সেকেন্ডের মধ্যে মায়ানমারের বহুতল ভবনগুলি ধ্বংস হয়ে যায় এবং থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককেও এক শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। ২০২৩ সালের পর এটি ছিল বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ব্যাঙ্কক শহরে বেশ কিছু বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং একাধিক ভিডিওতে একটি নির্মাণাধীন ৩০ তলা টাওয়ার ধসে পড়তে দেখা যায়। স্থানীয় একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভূমিকম্পের সময় বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন এবং অনেকেই ভবনগুলির কাঁপন অনুভব করে চিৎকার করেন।

স্থানীয় পুলিশ সূত্রে খবর, ব্যাঙ্ককের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের সামনে বহু মানুষ জড়ো হয়েছেন এবং কিছু স্থানীয় টাওয়ার ধসে পড়ার পর, ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়া মানুষদের সাহায্য চেয়ে চিৎকার করতে শোনা গেছে। পুলিশ জানায়, “আমরা ধারণা করছি যে শত শত মানুষ আহত হয়েছে, তবে হতাহতের সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।”

মায়ানমারের সামরিক জুন্টা সরকার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং পরিস্থিতির মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলিতে ভূমিকম্পের ক্ষতি সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

মায়ানমারে এবং থাইল্যান্ডে ভূমিকম্পের কারণে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধার কাজ চলছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।