মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি সুস্থ সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ, জরুরি মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যে একটি সুস্থ ও সভ্য সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তা শুক্রবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। গুজরাতে কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর খারিজ করতে গিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই মন্তব্য করেছে।
গুজরাট পুলিশ সামাজিক মাধ্যমে একটি কবিতা আপলোড করার অভিযোগে ইমরান প্রতাপগড়ির বিরুদ্ধে ‘শত্রুতা ছড়ানোর’ অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছিল। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কড়া মন্তব্য করে জানায়, কোনও লেখা বা মন্তব্যকে ‘বিদ্বেষমূলক’ বলে বিচার করার মানদণ্ড হতে পারে না, এমন কিছু মানুষের চিন্তাধারা, যারা সবকিছুকেই হুমকি বা সমালোচনা বলে মনে করে।
বিচারপতি এএস ওকা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুইয়াঁর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, “সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অপরিহার্য। সাহিত্য, কবিতা, নাটক, শিল্পকলা ও ব্যঙ্গচিত্র সমাজকে সমৃদ্ধ করে।”
এখন, যখন দেশজুড়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক চলছে, এই রায় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কমেডিয়ান কুণাল কামরার বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে, কারণ তিনি এক কমেডি অনুষ্ঠানে শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্ডেকে নাম না করে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে বড় রায়
এই রায়টি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আইনি এবং সামাজিক চাপ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভবিষ্যতে বাকস্বাধীনতা বিষয়ে আইনি চাপ কমাতে সাহায্য করবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের অধিকার রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।
এটি সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এমন একটি শক্তিশালী বার্তা, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে শক্তিশালী নজির স্থাপন করে এবং আগামীদিনে স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে আইনি বাধা কমিয়ে এনে একটি মুক্ত এবং বহুস্বরী সমাজ গঠনে সাহায্য করবে।