“বিরোধিতা করলে উৎসাহ পাই”-অক্সফোর্ডের বক্তৃতায় আর কী কী বললেন মমতা?

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে বক্তৃতা দেওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর জীবনের লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরেন। তিনি মঞ্চে উঠতেই শ্রোতারা তুমুল করতালির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। বক্তৃতার শুরুতেই মমতা জানান, মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনের সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, “এই কঠিন সময় আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে লড়তে হয়। আমি গরিব ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছি, তাদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেছি।”

কলকাতাকে চাকরির গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা

মমতা তাঁর বক্তব্যে কলকাতাকে চাকরির গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকার রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়েছে। তবে এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শ্রোতাদের একাংশ টাটা মোটরসের সিঙ্গুর থেকে প্রস্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন তোলেন। ২০০৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলনের জেরে টাটা মোটরস বাংলা ছেড়ে গুজরাতে চলে যায়, যা এখনও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়।

প্রতিবাদ ও প্রশ্নের মুখে মমতা

ভাষণের মাঝে কিছু শ্রোতা সিঙ্গুর, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ কাণ্ড এবং রাজ্যের শিল্পায়ন নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দেন। এতে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে মমতা শান্তভাবে জবাব দেন। তিনি বলেন, “আপনারা বিরোধিতা করলে আমি উৎসাহ পাই। এটা আমার জন্য নতুন নয়। আমি সবসময় লড়াই করেছি এবং করব।” তিনি শ্রোতাদের উদ্দেশে আরও বলেন, “আমার রাজ্যে এসে রাজনীতি করুন, আপনাদের দলকে শক্তিশালী করুন।”

জীবনের লড়াইয়ের গল্প

মমতা তাঁর বক্তৃতায় জীবনের প্রথম দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “বাবাকে হারানোর পর আমার পরিবারের দায়িত্ব আমার কাঁধে এসে পড়ে। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে আজকের জায়গায় পৌঁছানো পর্যন্ত আমি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি।” তিনি গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

বিতর্কের মুখে শান্ত প্রতিক্রিয়া

বক্তৃতার সময় শ্রোতাদের একটি অংশ বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেও মমতা তা সামাল দেন। তিনি একটি পুরানো ছবি দেখিয়ে বলেন, “বাম আমলে আমার মাথা ফাটানো হয়েছিল। আমি সেই সময় থেকে লড়াই করে এসেছি।” আরজি কর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি বিচারাধীন, আমি এ নিয়ে মন্তব্য করতে পারি না।”

কেলগ কলেজে মমতার ভাষণ তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের একটি প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। বিরোধিতা ও প্রশ্নের মুখেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল থাকেন। এই ঘটনা ভারতের রাজনীতির তীব্রতা বিদেশের মাটিতেও প্রতিফলিত করেছে। মমতার এই সফর ও বক্তৃতা আগামী দিনে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।