“২০৬০ সালে ভারত বিশ্বের ১ নম্বর অর্থনীতি?”-মমতার জবাবে BJP-র তীব্র নিন্দা

লন্ডনে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই বক্তব্যকে হাতিয়ার করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তাঁকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শানিয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে একটি অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী করণ বিলিমোরিয়া মমতাকে প্রশ্ন করেছিলেন, “ব্রিটেন ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি, ভারত পঞ্চম বৃহত্তম এবং শীঘ্রই এটি তৃতীয় বৃহত্তম হবে। ভবিষ্যদ্বাণী করা হচ্ছে যে ২০৬০ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বের প্রথম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে।” এর জবাবে মমতা বলেন, “আমি এতে ভিন্নমত পোষণ করি। এখানে অনেক কিছু বলা উচিত নয়। অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ, আমি তা প্রকাশ করতে পারছি না। আমার অন্য মতামতও আছে। কোভিডের পর প্রতিটি দেশই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এবং বিশ্বে অস্থিরতাও রয়েছে। যদি বিশ্বে অর্থনৈতিক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি চলে, তাহলে আমরা কীভাবে বৃদ্ধি আশা করব? আমরা বৃদ্ধির আশা করি, কেবল আশাই করতে পারি। আমাদের স্বপ্ন যে আমাদের দেশ সেরাটা করবে, কিন্তু এটি নির্ভর করে।”

বিজেপির তীব্র প্রতিক্রিয়া
মমতার এই বক্তব্যের পরই বিজেপি তাঁর বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়ে। দলের জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারী তীব্র সমালোচনা করে এক্স-এ লেখেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিকে লজ্জা! গোটা বিশ্ব স্বীকার করছে যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে ভারত অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলেছে! বিদেশের মাটিতেও ক্ষুদ্র ইন্ডিয়া জোটের নেতারা ভারত সম্পর্কে ভালো কথা বলতে পারেন না!” তিনি অভিযোগ করেন, মমতা ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি স্বীকার করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

বিজেপির সিনিয়র নেতা অমিত মালব্যও এই বক্তব্যের নিন্দা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি লেখেন, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়াতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্যা আছে… এটি সত্যিই লজ্জাজনক। তিনি যে সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত আছেন, তার জন্য তিনি লজ্জাজনক। বিদেশের মাটিতে কে এমন আচরণ করেন?” তিনি মমতার এই মন্তব্যকে ভারতের সম্মানের প্রতি আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেন।

আইএমএফ-এর প্রশংসার বিপরীতে মমতার সংশয়
এই বিতর্কের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য যে, কয়েকদিন আগেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভারতের অর্থনীতির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। আইএমএফ জানিয়েছে, ভারতীয় অর্থনীতি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই গতি অব্যাহত থাকতে পারে। তারা বলেছে, ভারত শীঘ্রই বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জাপানকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি ২০২৭ সালের মধ্যে জার্মানিকেও অতিক্রম করে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির স্থান দখল করতে পারে ভারত। এই প্রশংসার বিপরীতে মমতার সংশয়াত্মক মন্তব্য বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিক্ষোভ
কেলগ কলেজের ওই অনুষ্ঠানে মমতার বক্তৃতার সময় একদল ছাত্র তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং সম্প্রতি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে বিব্রত করার চেষ্টা করে। তবে মমতা শান্তভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমাদের দলকে বলো আমাদের রাজ্যে শক্তি বাড়াতে, যাতে তারা আমাদের সঙ্গে লড়তে পারে।”

বিতর্কের প্রভাব
মমতার এই মন্তব্য ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাকে নতুন মোড় দিয়েছে। বিজেপি এটিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘ভারত-বিরোধী’ মনোভাবের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে, তৃণমূল সমর্থকরা বলছেন, মমতা কেবল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যা বাস্তবতার প্রতিফলন। এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।