“রাস্তায় ঈদের নামাজ পড়লেই বাতিল পাসপোর্ট-ড্রাইভিং লাইসেন্স”-জানিয়ে দিলো যোগী সরকার

পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং রমজানের শেষ শুক্রবারে জুমাতুল বিদার নামাজের আগে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মিরাট পুলিশ রাস্তায় নামাজ পড়ার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, যারা এই নির্দেশনা লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার ফলে পাসপোর্ট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি শুক্রবার (২৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
মিরাটের পুলিশ সুপার (শহর) আয়ুশ বিক্রম সিং বলেন, “স্থানীয় মসজিদ বা নির্ধারিত ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়া উচিত। কারও রাস্তায় নামাজ পড়া উচিত নয়।” তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় লোকদল (আরএলডি) নেতা জয়ন্ত সিং চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, “যদি কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়, তাদের পাসপোর্ট ও লাইসেন্স বাতিল করা যেতে পারে। আদালত থেকে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) ছাড়া নতুন পাসপোর্ট পাওয়া কঠিন হবে। আদালত কর্তৃক ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত এসব নথি বাজেয়াপ্ত থাকবে।”
নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থা
মিরাটের সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) বিপিন তাদা জানান, জেলা ও থানা পর্যায়ে বৈঠকের মাধ্যমে সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো বা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কড়া নজর রাখছি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের যে কোনও প্রয়াস কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
ঈদের সময় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মিরাটের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রভিন্সিয়াল আর্মড কনস্টাবুলারি (পিএসি) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়েছে। স্পর্শকাতর এলাকায় সাদা পোশাকের পুলিশও নজরদারি চালাবে। স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ জুড়ে সতর্কতা
শুধু মিরাট নয়, গোটা উত্তরপ্রদেশে ঈদের আগে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে বিজেপি শাসিত এই রাজ্যের প্রশাসন। রাজ্যের রাজধানী লখনৌতে ১ হাজার পুলিশ সদস্য এবং ৯ কোম্পানি পিএসি মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া মনিটরিং চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
বিতর্কের জন্ম
রমজানের শেষ জুমা এবং ঈদের আগে এই নির্দেশনা নিয়ে উত্তরপ্রদেশে ব্যাপক হইচই শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন। তবে পুলিশের দাবি, জনসাধারণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য।
এই ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে এই নির্দেশনার প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে সকলের দৃষ্টি রয়েছে।