গমগম করছে অরুণাচল প্রদেশের আকাশ! লাগাতার যুদ্ধবিমানের গর্জন, মুহুর্মুহু চলছে গুলি, কি ঘটছে?

অরুণাচল প্রদেশের আকাশে যেন যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশ! মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ, গুলির শব্দ, আকাশে চক্কর কাটছে ড্রোন, উড়ছে একের পর এক যুদ্ধবিমান। এক নজরে দেখে মনে হতে পারে, সত্যিকারের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে! কিন্তু বাস্তবে এটি ভারতীয় সেনার তিন বাহিনীর বিশাল সামরিক মহড়া, যার কোড নাম ‘প্রচণ্ড প্রহার’।

যদি আচমকা চিনের তরফ থেকে হামলা হয়, তবে ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল কী হবে? কিভাবে সেনাবাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে? সেই প্রস্তুতিরই অংশ হিসেবে ২৫ থেকে ২৭ মার্চ ভারতীয় সেনার পদাতিক বাহিনী, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা মিলে একটি বিশাল সামরিক মহড়া সম্পন্ন করেছে। ইস্টার্ন কমান্ডের তত্ত্বাবধানে চালানো এই মহড়া ‘ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-ডোমেন এক্সারসাইজ’, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে যুদ্ধের অনুশীলনের জন্য।

সেনার তরফে জানানো হয়েছে, ‘প্রচণ্ড প্রহার’ অন্যান্য সামরিক মহড়ার চেয়ে অনেকটাই আলাদা। এখানে সাম্প্রতিক প্রযুক্তির বিভিন্ন সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

AI প্রযুক্তির ড্রোন, যার মধ্যে সুইসাইড ড্রোনও ছিল।

গুপ্তচর বিমান (স্পাই প্লেন) ও অস্ত্রবাহী হেলিকপ্টার।

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নজরদারি ও কমিউনিকেশন ব্লকিং প্রযুক্তি।

আনম্যানড এরিয়াল ভেহিক্যাল (UAV), যা শত্রু ঘাঁটিতে বিস্ফোরক ফেলতে ব্যবহৃত হয়েছে।

সেনার তিন বাহিনীর যুগলবন্দি

ভারতীয় সেনার তিন বাহিনী যৌথভাবে এই মহড়ায় অংশ নেয়। বায়ুসেনা নিয়ে আসে নজরদারি বিমান, নৌসেনা সমুদ্র নজরদারির জন্য রেডার স্থাপন করে এবং স্থলসেনারা নিয়ে আসে উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি, যা সেনাকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

কীভাবে মহড়াটি সম্পন্ন হল?

মহড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, যুদ্ধের প্রতিটি ধাপ হাতে-কলমে অনুশীলন করা। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল:

শত্রুপক্ষকে নির্দিষ্টভাবে ‘লক’ করা ও নিশানা করে ধ্বংস করা।

AI প্রযুক্তি-চালিত ড্রোন দিয়ে ক্লোজ এয়ার কমব্যাটের মহড়া।

বোমারু বিমান থেকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা।

গোপনীয়তা বজায় রেখে সম্পন্ন হল মহড়া

‘প্রচণ্ড প্রহার’ সাধারণ মানুষের নজরের বাইরে সম্পন্ন হয়। সেনার তরফে নিশ্চিত করা হয়, যাতে কোনো সাধারণ নাগরিকের ক্ষতি না হয়। এছাড়া, শত্রু দেশের নজরদারি এড়াতে সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্লক করে রাখা হয়েছিল।

সেনা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ হলেও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মহড়া ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতিরই অংশ। ভারত যে শত্রু আক্রমণের জন্য সর্বদা প্রস্তুত, তা স্পষ্ট করে দিল ‘প্রচণ্ড প্রহার’।