“১ কোটি টাকা দিলেও ভোট দেবে না, কারণ…”, বারুইপুরে গর্জে উঠলেন শুভেন্দু অধিকারী

“১ কোটি টাকা দিলেও ভোট দেবে না, কারণ এদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।”—বারুইপুরের সভা থেকে এভাবেই ক্ষোভ উগরে দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সামনে বিধানসভা ভোট, আর বিজেপির কৌশল স্পষ্ট—হিন্দুত্বের পথে এগিয়ে গিয়ে ভোটব্যাঙ্ক সুসংহত করা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে পোস্টার— “হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই, ছাব্বিশে বিজেপি সরকার চাই।”

এদিকে, রামনবমীকে ঘিরেও ব্যাপক সক্রিয় বিজেপি। কয়েকদিন আগেই শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, “১ কোটি হিন্দু রাস্তায় নামবে।” আর এবার বারুইপুরের কর্মসূচি থেকে ফের হিন্দু ভোটারদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানালেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আবহে এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

সভায় শুভেন্দু সরাসরি বলেন, “মগরাহাটে আইএসএফ সিপিএমের বাড়ি ভেঙেছে পঞ্চায়েতের পর। আমি গিয়েছি রিলিফ দিতে। জানি, ওরা ভোট দেবে না। ১ কোটি টাকা দিলেও দেবে না। কারণ, ওদের মাথায় ঢোকানো আছে।”

এরপরই কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “এরা রেশন নেবে মোদীজির, শৌচালয় নেবে, ভ্যাকসিন নেবে, ঘরও নেবে! বলবে ওটা অধিকার! আর ভোটের সময় বলবে বিজেপি হিন্দুদের দল! হ্যাঁ, ভারত তো হিন্দুস্তান, জয় হিন্দ বলি। ভারতের তিনটে নাম— ভারত, ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান।”

এদিন তৃণমূলের নাম না নিয়েও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। খোঁচা দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে টেনে এনে। তিনি বলেন, “বুদ্ধবাবু বলতেন, আমি ২৩৫, ওরা ৩০! কিন্তু আপনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) তো এখনও ২৩৫-এ পৌঁছননি! এত দম্ভ ভালো নয়!”

এরপর জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, “পরিবেশ আমরা তৈরি করে দেব। নিশ্চিন্ত থাকুন। যাঁদের জেলে দেখতে চান, তাঁদের জেলেই দেখতে পাবেন।”

সভায় শুভেন্দুর সাফ বার্তা, “আমাদের এক থাকতে হবে। আমরা হিন্দু ও জনজাতির ৪০% ভোট পাচ্ছি। কিন্তু অনেক হিন্দু ভোট দিতে যান না! তাঁরা দয়া করে বাড়ি থেকে বের হন। এ লড়াই অস্তিত্বের লড়াই।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেখছেন তো? সেই অভিজ্ঞতা থেকে কি তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট করবেন? আমি আশা করি, সনাতনীরা তা করবেন না। মাত্র ৮-১০% সনাতনী হিন্দু ভোটার বেরিয়ে এলে আমরা উড়িয়ে দেব। তারপর উত্তরপ্রদেশের মতো শৃঙ্খলা, সংস্কার, সুশাসন; গুজরাটের মতো শিল্প-কারখানা; অসমের মতো অনুপ্রবেশ রোধ করা হবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর এই বক্তব্যে স্পষ্ট—২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি হিন্দুত্বকেই অস্ত্র করে এগোতে চাইছে।