কলেজ নির্বাচন নিয়ে রাজ্যকে পদক্ষেপের নির্দেশ, তিন সপ্তাহের মধ্যে বিচারপতিকে জানাতে হবে সিদ্ধান্ত

রাজ্যের প্রতি কলেজের নির্বাচন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা দফতর কবে পদক্ষেপ করবে, তা জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার, প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের কাছ থেকে নির্বাচন সম্পর্কিত স্পষ্ট অবস্থান জানতে চায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন না হলে ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মামলাকারী আইনজীবী উদয় চট্টোপাধ্যায় ও সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, “রাজ্যের অন্যান্য নির্বাচনে কোনও সমস্যা হয় না, কিন্তু কলেজের নির্বাচনে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। লিংডো কমিশন অনুযায়ী নির্বাচন করা জরুরি, তবে ২০১৩ সালের পর কোনও কলেজ নির্বাচন হয়নি। অথচ পুজো, ফেস্ট ইত্যাদি বিষয়ক খরচ নিয়মিতভাবে অনুমোদন করা হয়।”

প্রধান বিচারপতি এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, “আপনাদের একটি স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। নির্বাচন না হলে ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়বে, আর এর পরিণতি ভালো হবে না। এই ধরনের মামলায় সব সময় সময় চাওয়া হয়, কিন্তু নির্বাচন কখন হবে, সেটি ঠিক করে জানাতে হবে।”

এদিকে, রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে আবেদন জানান, “আরও সময় দেওয়া হোক, কারণ বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন পদ্ধতির প্রস্তুতি চলছে।” তবে রাজ্য সরকারের আবেদন খারিজ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ জানান, রাজ্য সরকারকে তিন মাস নয়, তিন সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন বিষয়ে স্পষ্ট পদক্ষেপ জানাতে হবে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, “রাজ্য সরকারকে প্রতি দুই বছর অন্তর নির্বাচন আয়োজন করার নিয়ম রয়েছে, কিন্তু প্রায় দুই দশক ধরে সে নিয়ম পালিত হয়নি। এখন স্পষ্টভাবে জানতে চাই, হায়ার এডুকেশন দফতর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়।” এ বিষয়ে আদালত হলফনামা তলব করেছে এবং তিন সপ্তাহ পরে এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার পরবর্তী দফা, যেখানে ছাত্রদের নির্বাচনাধিকারের বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে আদালত মন্তব্য করেছে।