“হিন্দু হয়ে ইফতারে কেন?”-নেটিজেনদের কটাক্ষ শুনতে হলো জনপ্রিয় গায়ক শান কে

পবিত্র রমজান মাস চলছে, আর ঈদের আনন্দ দুয়ারে কড়া নাড়ছে। আমজনতার পাশাপাশি বলিউডের তারকারাও ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। এমনই এক আবহে সম্প্রতি মুম্বাইয়ের খ্যাতনামা পরিবেশবিদ আসিফ ভামলার ইফতার পার্টিতে হাজির হয়েছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শান। সেখানে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন তিনি। তবে, তার এই উপস্থিতি ও সাজপোশাক নেটপাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে—প্রশংসার পাশাপাশি কটাক্ষের ঝড়ও উঠেছে।

ইফতারে শানের মাতানো পারফরম্যান্স

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শান ২০০৬ সালের ‘ফানাহ’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘চাঁদ সিফারিশ’ গাইছেন। এই গানের মাধ্যমে তিনি ইফতার পার্টির মঞ্চ মাতিয়ে দেন। পরনে ছিল সাদা কুর্তা-পাজামা, গলায় সবুজ উত্তরীয় এবং মাথায় সাদা কাশ্মীরি টুপি। হাসিমুখে সকলের সঙ্গে আলাপচারিতা করে অনুরাগীদের সেলফির আবদারও মেটান তিনি। তার এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ অনেকের মন জয় করলেও, নেটপাড়ার একাংশের কাছে এটি বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নেটপাড়ায় কটাক্ষের ঝড়

শানের ইফতারে অংশ নেওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন লিখেছেন, “হিন্দু হয়ে ইফতারে কেন?” আরেকজনের মন্তব্য, “মুসলিম ধর্মে গান গাওয়া হারাম।” কেউ কটাক্ষ করে বলেছেন, “হিন্দুরাই এভাবে হিন্দুদের শত্রু হয়ে ওঠে।” এমনকি “পাকিস্তানি কাফের” বলে তাকে আক্রমণ করতেও ছাড়েননি কিছু নেটিজেন। “হাতে কাজ নেই, তাই ইফতারে গিয়েছেন?”—এমন মন্তব্যে ভরে গেছে পোস্টের কমেন্ট বক্স।

প্রশংসাও কম নয়

তবে, এই নেতিবাচকতার মাঝেও শানের প্রতি সমর্থনের অভাব নেই। অনেক অনুরাগী তার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা পাল্টা জবাবে নিন্দুকদের উদ্দেশে লিখেছেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।” একজন ভক্ত লিখেছেন, “শানের এই পদক্ষেপ ভালোবাসা ও একতার প্রতীক। ধর্মের নামে বিভেদ কেন?” শান নিজে এখনও এই বিতর্কে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবে তার অনুরাগীরা তার পক্ষে সোচ্চার হয়েছেন।

শানের ক্যারিয়ার

কয়েক দশক ধরে বলিউডে একাধিক হিট গান উপহার দিয়েছেন শান। ‘চাঁদ সিফারিশ’, ‘দে দে গেরুয়া’র মতো গান আজও চার্টবাস্টারে রাজত্ব করে। সম্প্রতি তিনি ‘সিকান্দার’ ছবিতে ‘ব্যোম ব্যোম ভোলে’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন, যা হোলির প্রাক্কালে মুক্তি পেয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার এই গানের জনপ্রিয়তা এখনও অটুট।

সম্প্রীতির বার্তা

ইফতার পার্টিতে শানের উপস্থিতি ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হতে পারত। তবে, সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশের কটাক্ষ তাকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, ভারতে ধর্মীয় সৌহার্দ্যের পথে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শানের এই পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা থামার কোনও লক্ষণ নেই, তবে তার ভক্তরা তার পাশে দাঁড়িয়ে সম্প্রীতির বার্তাকে সমর্থন করে চলেছেন।