‘’শীঘ্রই মারা যাবেন, যুদ্ধ শেষ হবে!’-পুতিনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুজবের মাঝেই বিস্ফোরক প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের স্বাস্থ্য নিয়ে চলমান গুজবের মধ্যে বিস্ফোরক দাবি করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবার প্যারিসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, “পুতিন শীঘ্রই মারা যাবেন এবং এটি সত্য। এরপরই যুদ্ধের অবসান ঘটবে।” তবে পুতিনের স্বাস্থ্যঝুঁকির সুনির্দিষ্ট সূত্র উল্লেখ করেননি জেলেনস্কি।

পুতিনের স্বাস্থ্য: গুজব বনাম বাস্তবতা

৭২ বছর বয়সী রুশ নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা গত কয়েক মাসে তীব্র হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে:

  • বৈঠকের সময় টেবিল ধরে বসে থাকা (২০২২)
  • হাত-পায়ের অনিয়ন্ত্রিত কাঁপুনি
  • দীর্ঘস্থায়ী কাশি
    কিছু আন্তর্জাতিক মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পুতিন পারকিনসনস বা ক্যানসারে ভুগছেন। তবে ক্রেমলিন একাধিকবার এসব দাবি খারিজ করে বলেছে, “প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ সুস্থ।”

বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলেনস্কির এই বক্তব্য যুদ্ধের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের অংশ। মস্কোভিত্তিক বিশ্লেষক দিমিত্রি ট্রেনিন বলেন, “এটি ইউক্রেনের তথ্য যুদ্ধের কৌশল মাত্র। পুতিন সম্প্রতি ১৮ ঘণ্টার নির্বাচনী মারাথনে বক্তৃতা দিয়েছেন, যা অসুস্থ ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়।”

যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব

যদি পুতিনের স্বাস্থ্যজনিত কোনো সংকট সত্যি হয়, তাহলে:
১. রাশিয়ায় ক্ষমতার লড়াই তীব্র হতে পারে
২. ইউক্রেন যুদ্ধে সুবিধা নিতে চাইতে পারে
৩. বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেবে

ক্রেমলিনের প্রতিক্রিয়া

রুশ সরকারি মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জেলেনস্কির বক্তব্যকে “অভদ্র ও অগ্রহণযোগ্য” আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিন সক্রিয়ভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ৭ মে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠানও নির্ধারিত রয়েছে।”

পরিস্থিতি মনিটরিং: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পুতিনের স্বাস্থ্য ও যুদ্ধের গতিপথ নিয়ে সতর্ক পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।