সিলিং ফ্যানে টান পড়লেই বাজবে অ্যালার্ম, কিশোর আবিষ্কার করল আত্মহত্যা প্রতিরোধী যন্ত্র, পেল পুরস্কার

রাজস্থানের কোটায় পড়ুয়াদের আত্মহত্যার খবর এবং রাজ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আত্মঘাতী প্রবণতা ভাবিয়ে তুলেছিল নীলমণি ব্রহ্মচারী ইনস্টিটিউশনের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রুস্তম ঘোষকে। এই ভাবনা থেকেই সে তৈরি করেছে ‘সুইসাইড প্রিভেনশন অ্যালার্ম’—একটি সাশ্রয়ী যন্ত্র যা সিলিং ফ্যানে ফাঁস লাগার মুহূর্তেই সতর্ক করে দেবে আশেপাশের মানুষদের।

কীভাবে কাজ করে এই যন্ত্র?

  • সিলিং ফ্যানে লাগানো হয় হাইড্রলিক সেন্সর ও অ্যালার্ম সিস্টেম
  • ফ্যানে কোনো চাপ (ফাঁসের দড়ির টান) পড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইড্রলিক নিচে নেমে আসে
  • সঙ্গে সঙ্গে বেজে ওঠে জোরালো অ্যালার্ম
  • বাড়ির বাইরে লাগানো এলইডি বাল্ব জ্বলে উঠে সংকেত দেয়
  • পুরো সিস্টেম চালাতে প্রয়োজন মাত্র দুটি ব্যাটারি, মোট খরচ ১,০০০ টাকা

আবিষ্কারের পেছনের গল্প

রুস্তম জানায়, “রাজস্থানের ঘটনাগুলো আমাকে নাড়া দিয়েছিল। ভেবেছিলাম, এমন কিছু বানানো দরকার যা মুহূর্তেই আত্মহত্যার চেষ্টা রুখে দিতে পারে। আমাদের গ্রামে যন্ত্রাংশ পাওয়া কঠিন ছিল, তবু চেষ্টা চালিয়ে গেছি।”

স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় সাফল্য

গত ২৬-২৭ মার্চ স্কুলের বার্ষিক বিজ্ঞান মেলায় রুস্তমের এই আবিষ্কার সকলের নজর কাড়ে এবং পুরস্কৃত হয়। একই মেলায় স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রূপল দাস ও সৌভিক ঘোষ চালকদের জন্য ‘অ্যান্টি-স্লিপ ড্রাইভিং অ্যালার্ম’ প্রদর্শন করে, যা চশমায় লাগানো সেন্সরের মাধ্যমে ঘুমন্ত চালককে সতর্ক করে।

বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া

স্কুলের প্রধান শিক্ষক উত্তম বসাক বলেন, “ছাত্রদের উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশে আমরা নিয়মিত বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করি। রুস্তমের এই যন্ত্র সামাজিক সমস্যা সমাধানের দিশা দেখায়।” মনোবিজ্ঞানী ড. অর্পিতা ঘোষ মন্তব্য করেন, “এ ধরনের প্রযুক্তি আত্মহত্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষত হোস্টেল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রুস্তম এখন তার যন্ত্রটিকে আরও উন্নত করতে কাজ করছে এবং এটির পেটেন্টের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা করেছে। স্থানীয় প্রশাসন যন্ত্রটি হোস্টেল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থাপনের বিষয়ে বিবেচনা করছে।

সতর্কবার্তা: মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর (৯১৬৩৪৯৬৭২২/০৩৩-২৪৬৩৩০১) বা নিকটস্থ মনোচিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।