রানা সাঙ্গাকে নিয়ে সপা সাংসদের মন্তব্যে রণক্ষেত্র আগরা, করণী সেনার তাণ্ডব, ভাঙচুর, পুলিশের সঙ্গেও সংঘর্ষ

রাজপুত যোদ্ধা রানা সাঙ্গাকে নিয়ে সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ রামজি লাল সুমনের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে উত্তরপ্রদেশের আগরায় রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বুধবার দুপুরে করণি সেনার শতাধিক কর্মী সাংসদের কুবেরপুরের বাসভবনে হামলা চালায়। বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর চালায়, গাড়ির কাচ ভাঙে এবং বাড়ির গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা, ফলে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন।

বিতর্কের সূত্রপাত

গত ২১ মার্চ রাজ্যসভায় বক্তৃতার সময় রামজি লাল সুমন রানা সাঙ্গাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “ভারতীয় মুসলিমরা বাবরকে তাদের আদর্শ মানে না। কিন্তু বাবরকে কে এনেছিল? রানা সাঙ্গাই বাবরকে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তাই মুসলিমদের যদি বাবরের বংশধর বলা হয়, তবে হিন্দুদেরও রানা সাঙ্গার বংশধর বলতে হবে।” এই মন্তব্য রাজপুত সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং করণি সেনার মতো সংগঠনগুলো এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

হামলা ও ভাঙচুর

বুধবার সকাল থেকেই করণি সেনার কর্মীরা আগরার এটমদপুর ক্রসিংয়ে জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর ১২টার দিকে তারা বুলডোজার নিয়ে সাংসদের বাসভবনের দিকে রওনা দেয়। ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে তারা বাড়ির সামনে পৌঁছে গেট ভাঙার চেষ্টা করে, পাথর ছোড়ে এবং বাইরে থাকা আসবাবপত্র ও গাড়ি ভাঙচুর করে। প্রায় ১০টি গাড়ির কাচ ভাঙা হয় এবং বাড়ির জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীরা তা ভেঙে ফেলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।

পুলিশ ও সমাজবাদী পার্টির প্রতিক্রিয়া

হরিপর্বত থানার ইন্সপেক্টর অলোক কুমার জানান, “বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

সাংসদের ছেলে রঞ্জিত সুমন অভিযোগ করেন, “গত দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আজ তারা লাঠি, রড ও তলোয়ার নিয়ে হামলা চালিয়েছে। পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।” সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব ঘটনার নিন্দা করে বলেন, “রামজি লাল সুমনের ওপর হামলা হয়েছে কারণ তিনি দলিত। আমরা রানা সাঙ্গার সাহসিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি। এটি বিজেপি সরকারের ষড়যন্ত্র।”

করণি সেনার দাবি

কর্ণি সেনার নেতা মহিপাল মাকরানা বলেন, “আজকের প্রতিবাদ ছিল শুধুই ট্রেলার। রানা সাঙ্গার মতো মহান নেতার বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যের জন্য আমরা ক্ষমা চাইব। এর জন্য তাকে রূপবাসে রানা সাঙ্গার স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে।” সংগঠনটি এই মন্তব্যকে রাজপুত সমাজের অপমান হিসেবে দেখছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ঘটনার সময় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আগরায় একটি সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যা থেকে সাংসদের বাসভবন মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে। অখিলেশ যাদব প্রশ্ন তুলে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতেও এমন ঘটনা ঘটলে ‘জিরো টলারেন্স’-এর দাবি কোথায়?” বিজেপি এই মন্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে সমাজবাদী পার্টির কাছে ক্ষমা দাবি করেছে।

আইনি পদক্ষেপ

এদিকে, আগরার একটি আদালতে রামজি লাল সুমন ও অখিলেশ যাদবের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবী অজয় প্রতাপ সিং এই মন্তব্যকে সনাতন ধর্মের অপমান বলে দাবি করেছেন। আগামী ১০ এপ্রিল এই মামলার শুনানি হবে।

এই ঘটনা রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আগরায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।