‘RAW’-কে ব্যানের সুপারিশ আমেরিকায়, রয়টার্সের রিপোর্ট খারিজ করে দিলো ভারত

মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (USCIRF) তাদের সদ্য প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভারতের বহিরাগত গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (RAW)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ এবং বৈষম্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগও তুলেছে কমিশন।

হত্যার ষড়যন্ত্রে RAW-এর ভূমিকা?

USCIRF-এর প্রতিবেদনে ভারতের RAW-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বলা হয়েছে, শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হত্যার ষড়যন্ত্রে এই সংস্থা জড়িত। সম্প্রতি কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খালিস্তানি নেতাদের লক্ষ্য করে ভারতীয় সংস্থাগুলির কথিত ষড়যন্ত্র নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এই প্রেক্ষিতে কমিশন RAW এবং ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের বিরুদ্ধে লক্ষ্যবস্তু নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে। উল্লেখযোগ্য, বিকাশ যাদবের বিরুদ্ধে আমেরিকার মাটিতে খালিস্তানি নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ করার আহ্বান

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “২০২৪ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ এবং বৈষম্য বেড়েছে।” এই পরিস্থিতির জন্য কমিশন মার্কিন প্রশাসনের কাছে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ (Country of Particular Concern) হিসেবে ঘোষণার সুপারিশ জানিয়েছে। পাশাপাশি, ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের দায়ে ভারতীয় সংস্থাগুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মোদী ও বিজেপির ওপর অভিযোগ

রিপোর্টে মোদী সরকারকে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচার চালিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারে মুসলিম এব “‘ইনফিলট্রেটর’ (অনুপ্রবেশকারী) যাদের বেশি সন্তান হয়” এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য মন্তব্য করা হয়েছে।” এই অভিযোগ গত বছরের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের প্রতিক্রিয়া এখনও অপ্রকাশিত

প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে অতীতে ভারত USCIRF-এর রিপোর্টকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারও মোদী সরকার একই অবস্থান বজায় রাখতে পারে।

নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা ক্ষীণ

USCIRF-এর সুপারিশগুলি মার্কিন প্রশাসনের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকার কারণে RAW-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে এই প্রতিবেদন কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পটভূমি

২০২৩ সাল থেকে আমেরিকা ও কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লক্ষ্য করে কথিত হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ভারতের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলির সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। ভারত এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও, USCIRF-এর এই রিপোর্ট বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। আগামী দিনে এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে সবার দৃষ্টি রয়েছে।