ফোন তুললেই ‘ফাঁকা’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! ‘ভুয়ো’ কল সেন্টারে অভিযান চালাতেই গ্রেফতার ২১ জন

২০২২ সাল থেকেই গোপনে চালানো হচ্ছিল এক ভয়ঙ্কর প্রতারণার চক্র। তিন বছর পর, ২০২৫ সালে এসে অবশেষে ফাঁস হলো এই চক্রের কার্যকলাপ। সোমবার রাতে লেকটাউন থানার দক্ষিণদাড়ি এলাকায় একটি ভুয়ো কল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতাদের গ্রেফতার করল ওয়েস্ট বেঙ্গল সাইবার ক্রাইম উইং-এর গোয়েন্দারা।

অভিযানের সময় গোয়েন্দারা বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ, মোবাইল এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেন। পাশাপাশি, উদ্ধার হয় দু’টি রেজিস্টার, যেখানে লেখা ছিল একাধিক অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের নাম। এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে—

কলকাতা থেকেই কি অস্ট্রেলিয়ায় প্রতারণার জাল বিস্তার করা হচ্ছিল?

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযানে মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা প্রত্যেকেই ভারতীয় নাগরিক। তদন্তে উঠে এসেছে, রেজিস্টারে থাকা অস্ট্রেলিয়ান নামগুলোর মাধ্যমে বিদেশিদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হত। ইতিমধ্যে ২১ জনের মধ্যে ১৭ জনকে আদালতে তোলা হয়েছে, বাকিদের রাখা হয়েছে পুলিশি হেফাজতে।
গোয়েন্দাদের দাবি, এই চক্রের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিদেশিরা, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরা। কারণ, তারা একবার প্রতারণার শিকার হলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতানো সম্ভব হত।

🔸 প্রথম ধাপ: লেকটাউনের চার কামরার অফিস থেকে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের ফোন করা হতো।🔸 দ্বিতীয় ধাপ: ফোন কলের জন্য ইন্টারনেট ভয়েস কলিং (VoIP) ব্যবহার করা হতো, যাতে নম্বর ট্রেস করা না যায়।🔸 তৃতীয় ধাপ: প্রতারণার জন্য ফিনল্যান্ড বা ফ্রান্সের IP অ্যাড্রেস ব্যবহার করত চক্রটি, যাতে মনে হয় কলটি বিদেশ থেকেই আসছে।🔸 চূড়ান্ত ধাপ: প্রথমে বিশ্বাস অর্জন, তারপর কল ট্রান্সফার হয়ে যেত টালিগঞ্জের আরেকটি কল সেন্টারে। সেখান থেকে নানা ধরনের পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেওয়া হত লক্ষ লক্ষ টাকা।

এই প্রতারণা চক্রে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কলকাতা পুলিশের ধারণা, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সাইবার ক্রাইমের নেপথ্যে আরও বড় কোনও গ্যাং কাজ করছে। তদন্ত চলছে, আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।