ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ, জেনেনিন কেন?

ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান অমানবিক আচরণ ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের স্বাধীন প্যানেল ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ (ইউএসসিআইআরএফ) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং’ (র)-এর ওপর শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের হত্যা পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের মূল বিষয়
ইউএসসিআইআরএফ-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নিপীড়ন ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা ও ভুল তথ্য প্রচার করেছে। উদাহরণ হিসেবে, গত এপ্রিলে মোদি মুসলমানদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, “মুসলিমরা বেশি বেশি সন্তান জন্ম দেয়।” এই ধরনের বক্তব্য ধর্মীয় উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া, প্রতিবেদনে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের ওপর ভারতের নজরদারি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘র’-এর সাবেক কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে শিখ নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে জটিলতা সৃষ্টি করেছে।
ভারতের অবস্থান
ভারত শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এবং বিদেশে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নরেন্দ্র মোদি, যিনি ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় রয়েছেন, সংখ্যালঘুদের ওপর বৈষম্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তার সরকারের বিদ্যুৎ ও ভর্তুকি প্রকল্পগুলো সকল সম্প্রদায়ের জন্য সমানভাবে কাজ করে। নয়াদিল্লি এই প্রতিবেদনকে ‘অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে সমালোচনা করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদনে ভিয়েতনামকেও ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিউনিস্ট-শাসিত এই ধর্মীয় বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে বলে অভিযোগ। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় ওয়াশিংটন ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। এই কারণে ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে গেছে। যদিও প্যানেলের সুপারিশ বাধ্যতামূলক নয়, তাই ‘র’ বা বিকাশ যাদবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা কম।
প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিবেদন ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ইউএসসিআইআরএফ ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে মনোনীত করার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করলেও, ভারতের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে এটি বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
সূত্র: রয়টার্স।