ঝাড়খণ্ডে রহস্যময় রোগের থাবা”, অজানা জ্বরে শিশুমৃত্যু, কী এই অসুখের নাম?

ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার একটি গ্রামে এক অজ্ঞাত রোগের কারণে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সর্দি, কাশি, চোখে হলুদ ভাব, এবং শরীরে তীব্র জ্বরের মতো উপসর্গ নিয়ে এই রহস্যময় রোগ শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, এবং বর্তমানে আক্রান্ত ২২ জনের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। চিকিৎসকরা এই রোগের প্রকৃতি ও তার কারণ সম্পর্কে এখনও পরিষ্কার ধারণা পাননি, তবে ম্যালেরিয়ার মতো কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
রক্তের নমুনা পরীক্ষা, চিকিৎসকদের চিন্তা
চিকিৎসকরা প্রথমদিকে ম্যালেরিয়া হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করলেও, অসুখটি ম্যালেরিয়ার মতো হলেও তা নয় বলে মনে হচ্ছে। আক্রান্তদের থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো ধানবাদে উচ্চমানের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, পরীক্ষা রিপোর্ট আসলে এই অজ্ঞাত রোগের প্রকৃত কারণ উন্মোচন হবে।
গ্রামের প্রধান মাইসা পাহাড়িয়া জানিয়েছেন, একই পরিবারের তিনটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা গ্রামে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তিনি জানিয়েছেন, “এ ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব আমাদের এলাকায় আগে কখনও হয়নি। আমাদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।”
রোগের উপসর্গ
এ রোগের সাধারণ উপসর্গগুলো ম্যালেরিয়ার মতো হলেও, এই রোগের প্রকৃতি এখনও স্পষ্ট নয়। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সর্দি, কাশি, চোখে হলুদ ভাব, জ্বর এবং তীব্র মাথাব্যথা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রবি কুমার জাটব জানিয়েছেন, “চিকিৎসকরা আক্রান্তদের সর্দি, কাশি, জ্বরের জন্য ওষুধ ও ওআরএস দেওয়া হচ্ছে। তবে রহস্যময় এই রোগের কারণে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।”
গ্রামে চিকিৎসা শিবির, আতঙ্কে পরিবার
রবিবার, একটি চিকিৎসক দল গ্রামে পৌঁছে এবং স্থানীয়দের জন্য একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির আয়োজন করে। চিকিৎসকরা রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে এবং গ্রামবাসীদের চিকিৎসা প্রদান করেন। সিভিল সার্জন ডাঃ প্রবীণ কুমার সাঁথালিয়া জানিয়েছেন, আক্রান্ত ২২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ম্যালেরিয়ার লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে, এই অজ্ঞাত রোগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
গ্রামবাসীদের দুশ্চিন্তা
এই রহস্যময় রোগে গ্রামবাসীদের মধ্যে গভীর দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা গ্রামবাসীদের মধ্যে আরও বেশি ভয় সৃষ্টি করেছে। একই পরিবারের তিনটি শিশুর মৃত্যু, গ্রামবাসীদের মধ্যে একেবারে শোকের ছায়া ফেলেছে।
এখন পর্যন্ত, চিকিৎসকরা কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাননি, তবে গ্রামে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই রোগের প্রকৃত কারণ এবং তার প্রতিকার জানাতে কাজ করছেন।
এদিকে, গ্রামে রোগের বিস্তার রোধ করতে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য সরকারী উদ্যোগের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তবে, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে রিপোর্ট আসা পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ধারণা দেওয়া সম্ভব নয়।