ফের উত্তেজনা যোগেশে! TMCP সদস্যদের কলেজে ঢুকে বেধড়ক মার? নেপথ্যে তৃণমূল নেতা!

কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজ যেন একের পর এক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে! সংশ্লিষ্ট মহল এ বিষয়ে এমনটাই মন্তব্য করেছে। সম্প্রতি, এই কলেজের নাম আবারও সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। এবারের অভিযোগ, কলেজের ছাত্রছাত্রীরা, বিশেষত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) সদস্য এবং তাদের সমর্থকদের ওপর বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এবং, এই নিগ্রহের নেপথ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার অনুগামীদের হাত রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ, ২০২৫) বিকেলে ইন্দ্রাণী পার্কের কাছে ঘটে যাওয়া এই হামলায় সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলা চালিয়েছে সলমন খান বা ভিকি নামক এক ব্যক্তি এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা। সলমন ওরফে ভিকি, সন্দীপ নন্দী মজুমদারের ঘনিষ্ঠ এবং তার অনুগামী হিসেবে পরিচিত। সন্দীপ নন্দী মজুমদার হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা এবং কলকাতার ৯৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

এদিন, সলমন ও তার দলবল ইন্দ্রাণী পার্কে হামলা চালানোর পর, ঘটনাটি যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজে পৌঁছায়। অভিযোগ, কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের এবং টিএমসিপি সদস্যদের ওপর হামলা করা হয়। হামলাকারীরা ছাত্রীদেরও নিশানা করে, তাঁদের মারধর করে এবং খুন ও ধর্ষণের হুমকিও দেয় বলে শোনা যাচ্ছে।

একটি পড়ুয়া সংবাদমাধ্যমে জানান, “হামলাকারীরা আমাদের উদ্দেশ্যে অনেক নোংরা কথা বলেছে। বলেছে, ‘তোদের ফোটো তোলা আছে, কলেজে থাকলে মেরে দেব, কেটে রেখে দেব!'”

এই ঘটনার পর কলেজে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে, স্থানীয় চারু মার্কেট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহত ছাত্রছাত্রীদের কয়েকজনকে পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।

এটি প্রথম নয়, এর আগে সরস্বতী পুজো এবং দোল উৎসবের সময়েও যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজ অশান্তির খবরের শিরোনাম হয়েছে। প্রতিবারই এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের শাখা সংগঠন টিএমসিপি-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে এসেছে। এবারও দলের কাউন্সিলরের অনুগামীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠল।