‘বেলগাছিয়ার ৯৬টি পরিবারকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের আওতায় নতুন বাড়ি প্রদান করা হবে’, বললেন পুরমন্ত্রী

হাওড়ার বেলগাছিয়া ভাগাড়ে সম্প্রতি ধস নেমে বিপদে পড়েছেন বাসিন্দারা। এই ঘটনা নিয়ে বিরোধী দল বিজেপি অভিযোগ তুলেছে এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। বেলগাছিয়া এলাকায় পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে যান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, রাজ্য সরকার গৃহহারা বাসিন্দাদের জন্য ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের আওতায় নতুন বাড়ি তৈরি করবে। ইতিমধ্যেই সল্টলেকের উন্নয়ন ভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, বেলগাছিয়া ভাগাড়ে জমে থাকা আবর্জনার পাহাড় কমিয়ে ফেলার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এদিন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হাওড়ার বেলগাছিয়াকে অবহেলিত বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকারের কার্যকলাপের ফলে এখানকার বাসিন্দারা সমস্যায় পড়েছেন। তবে, এই অবস্থা মোকাবিলায় রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সূত্রের খবর, বেলগাছিয়া ভাগাড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জন্য বায়ো মাইনিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বর্জ্য থেকে তৈরি হবে জৈব সার, বায়ো গ্যাস, প্লাস্টিক ও লোহার নানা সামগ্রী। এছাড়া, ধাপার মতো স্থানেও সবুজ ক্ষেত্র তৈরি করা হবে।
এ বিষয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পুরমন্ত্রী জানান, হাওড়ার বেলগাছিয়ার ৯৬টি পরিবারকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের আওতায় নতুন বাড়ি প্রদান করা হবে। এদিকে, পুরসভার অফিসাররা হাওড়ার নিকাশি এবং জঞ্জাল পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। মন্ত্রী বলেন, “হাওড়ার বড় নিকাশি নালাগুলির সংস্কার জরুরি, এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নও প্রয়োজন। এই কাজগুলি দ্রুত সম্পন্ন করতে কেএমডিএ’কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বেলগাছিয়া ভাগাড়ের উন্নতির জন্য রাজ্য সরকার একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে রয়েছে বায়ো মাইনিং প্রকল্প, যার মাধ্যমে বর্জ্যের পাহাড় কমিয়ে ফেলা হবে। এই প্রকল্পটি পাঁচ বছর সময় নেবে, তবে এর মাধ্যমে এখানের পরিবেশও উন্নত হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বায়ু দূষণ কমে যাবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, “রাজ্য সরকার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে এর ফলে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আশেপাশের এলাকায় বায়ু দূষণও কমবে।” পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম আরও জানান, রাজ্যে সব ডাম্পিং গ্রাউন্ডে বায়ো মাইনিং পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার জন্য পৃথক প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে।