TMC-BJP তরজা চরমে, মেয়র গৌতমকে ‘অপদার্থ’ বলে কটাক্ষ করলেন বিধায়ক শিখা

বছরখানেক পরই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে থেকেই জনসংযোগে মন দিয়েছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিরোধী বিজেপি—সব শিবিরই। উত্তরবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে তৃণমূল ও বিজেপি উভয়ের জন্যই প্রেস্টিজ ফাইট হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিলিগুড়িতে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গেছে। একদিকে শিলিগুড়ির মেয়র তথা তৃণমূল নেতা গৌতম দেব ‘মানুষের কাছে চলো’ কর্মসূচি নিয়ে জনসংযোগে নেমেছেন, অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। জনসংযোগের মাঝেও একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণে পিছপা হচ্ছেন না দুই শিবিরের নেতারা।

ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে বিতর্ক

শিলিগুড়ির ডাম্পিং গ্রাউন্ড দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়ে সময়ে এখানে আগুন লেগে শহর ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, যার ফলে শ্বাসকষ্ট ও অসুস্থতায় ভুগছেন বহু মানুষ। আশপাশে বেসরকারি স্কুল, বহুতল ভবন ও বস্তি থাকায় সমস্যা আরও প্রকট। এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিজেপি সম্প্রতি পুরনিগমের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে। সোমবার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কর্মী ও সমর্থকরা শিলিগুড়ি পুরনিগমের কমিশনারের কাছে ডাম্পিং গ্রাউন্ড অন্যত্র সরানোর দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেন।

শিখা চট্টোপাধ্যায় মেয়র গৌতম দেবকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “শিলিগুড়ি পুরনিগমের ক্ষমতায় রয়েছেন এক অপদার্থ মেয়র। এই মেয়রের কাজ করার কোনও ক্ষমতা নেই। দশ বছর ধরে ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা শুনে আসছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত কিছুই বাস্তবে রূপ নেয়নি। মানুষের অসুবিধা ছাড়া কিছু হয়নি। অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।”

গৌতম দেবের পাল্টা জবাব

মেয়র গৌতম দেব পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় শিখা চট্টোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, “শিখা চট্টোপাধ্যায় আমার থেকে বয়সে অনেক বড়। আমি ওনার কথার কোনও উত্তর দেব না। ঈশ্বর ওনার সুবুদ্ধি দিক, সেই কামনা করি। ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা কিছুদিনের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে।” তিনি বিজেপির সমালোচনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন।

বিজেপির আন্দোলন ও দাবি

বিজেপি সদস্যরা সম্প্রতি ডাম্পিং গ্রাউন্ড পরিদর্শন করেন এবং এর পরিস্থিতি দেখে মেয়রের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। শিখা চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সোমবারের প্রতিবাদে পুরনিগমের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপি জনগণের মধ্যে তাদের অবস্থান জোরদার করার চেষ্টা করছে।

নির্বাচনের আগে উত্তেজনা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শিলিগুড়ি এখন রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি উভয়ই উত্তরবঙ্গে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া। গৌতম দেবের নেতৃত্বে তৃণমূল জনসংযোগের মাধ্যমে তাদের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে, অন্যদিকে শঙ্কর ঘোষ ও শিখা চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিজেপি নেতারা শাসক দলের ব্যর্থতাকে তুলে ধরে জনমত গড়ার চেষ্টায় রয়েছেন।

ডাম্পিং গ্রাউন্ড ইস্যুটি নির্বাচনের আগে আরও জোরালো হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয়দের সমস্যা সমাধানে কে এগিয়ে আসে, তা নির্বাচনী ফলাফলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এখন থেকেই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক ময়দানে তৃণমূল-বিজেপির লড়াই জমে উঠেছে।