শিক্ষকের বেতন দেওয়া হল ‘হায়ার স্কেলে’, পেনশনেই বাঁধলো বিভ্রাট! – যা বললো হাইকোর্ট

বর্ধমানের দধিয়া গোপালদাস উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল কালাম আজাদ অবসরের পর পেনশন স্কেলে পেনশন না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অবশেষে, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর, তাঁকে প্রয়োজনীয় সমাধান দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
আব্দুল কালাম আজাদ, যিনি ১৯৮৬ সালে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন, তিনি ১৯৯৯ সালে বাংলায় স্নাতকোত্তর পাশ করেন এবং বাংলা বিষয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০১৫ সালে তিনি অবসর নেন এবং অভিযোগ করেন যে, তিনি যখন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট হিসেবে বেতন পাচ্ছিলেন, তখন অবসরের পর তাকে সেই স্কেলে পেনশন দেওয়া হচ্ছে না, বরং গ্র্যাজুয়েট স্কেলেই পেনশন দেওয়া হচ্ছে।
এই অভিযোগে তিনি ২০১৯ সালে আদালতে মামলা করেন। রাজ্যের আইনজীবী ভাস্কর প্রসাদ বৈশ্য জানান, জেলা পর্যবেক্ষক নতুন স্কেলে টাকা দেওয়ার অনুমতি দেননি কারণ প্রশ্ন ওঠে, স্কুল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ওই শিক্ষককে রেগুলার কোর্সে স্নাতকোত্তর করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কীভাবে।
শিক্ষকের আইনজীবী বেনজির আহমেদ বলেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি তাঁকে স্নাতকোত্তর করার অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু তা ডিআই-কে (ডিস্ট্রিক্ট ইনস্পেক্টর) জানানো হয়নি। তিনি স্নাতকোত্তর রেগুলার কোর্সে পাশ করেননি, এমনও দাবি তাঁর আইনজীবীর।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন ও বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাস এর ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেন, যে শিক্ষক নিজে কখনও স্কেল ঠিক করেন না এবং তিনি ১৬ বছর ধরে স্কুলে হায়ার স্কেলে বেতন পেয়েছেন, সেই সময়ে কেউ কোনও অভিযোগ জানায়নি। তবে, অবসরের পরেই এই সমস্যা সামনে এসেছে।
অবশেষে, আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় এবং আব্দুল কালাম আজাদ-কে এক মাসের মধ্যে তার যাবতীয় পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশে, ২০২৫ সালের মধ্যে সমস্ত বকেয়া পরিমাণ পরিশোধ করতে হবে।
এই রায়ে শিক্ষককে ন্যায্যতা মিলেছে এবং বিষয়টি তাঁর জন্য একটি বড় জয় বলে মনে করা হচ্ছে।