OMG! পরকীয়ায় রক্তারক্তি কান্ড বাংলায়, স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে নিজের পেটে ছুরি গাঁথল স্বামী

উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার পাল্লা কামারপুর এলাকায় সোমবার রাতে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে শিউরে উঠল গোটা এলাকা। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া স্ত্রী দীপু মণ্ডলকে (২৮) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছেন স্বামী সুখদেব মণ্ডল। এরপর নিজের পেটে ছুরি চালিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা দীপুকে মৃত ঘোষণা করেন। সুখদেবের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় রেফার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর আগে গোপালনগরের ১৭ নম্বর রেলগেট এলাকার বাসিন্দা সুখদেব মণ্ডলের সঙ্গে দীপু মণ্ডলের বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর আগে দীপু একটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি প্রেমিক রতনের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। স্বামী সুখদেব বহুবার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে রতনের বাড়িতে গিয়েছিলেন, কিন্তু দীপু ফিরতে রাজি হননি।
সোমবার রাতে রাগের বশে সুখদেব ধারালো অস্ত্র হাতে স্ত্রীর প্রেমিকের বাড়িতে হানা দেন। সেখানে দীপুকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় দীপু মাটিতে লুটিয়ে পড়লে, সুখদেব নিজের পেটে ছুরি চালিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের চিৎকার শুনে ছুটে এসে রক্তাক্ত স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে এবং পুলিশে খবর দেয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা ও পুলিশি তৎপরতা
গোপালনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা দীপু মণ্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সুখদেবকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সুখদেব এখনও চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তে পুলিশ
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দীপুর প্রেমিক রতনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জটিলতা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এলাকায় চাঞ্চল্য
এই নৃশংস ঘটনায় গোপালনগরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সুখদেব ও দীপুর সম্পর্কে সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। তবে এই ঘটনা এলাকার মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।