কীভাবে সাংবাদিকের কাছে ফাঁস হল মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার গোপন তথ্য? গাফিলতি কার!

গত কয়েক দিন ধরে ইয়েমেনে হামলা চালাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে চমকপ্রদ তথ্য হল, হামলার পরিকল্পনা আগেই জানতে পেরেছিলেন এক সাংবাদিক!

সূত্রের খবর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা সচিব ও শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের এক ভুলের কারণেই এই তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। ভুলবশত ‘দি আটলান্টিক’ ম্যাগাজিনের এডিটর-ইন-চিফ জেফরি গোল্ডবার্গকে জাতীয় নিরাপত্তার গোপন চ্যাট গ্রুপে যুক্ত করে ফেলে হোয়াইট হাউস। সেখানেই তিনি মার্কিন হামলার যাবতীয় পরিকল্পনার তথ্য পেয়ে যান।

এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই হোয়াইট হাউস নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার ওপর বড়সড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে বিরোধীরা।

কীভাবে ফাঁস হল মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার গোপন তথ্য?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা অভিযান সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। যদি এই ধরনের তথ্য শত্রুর হাতে পড়ে, তবে তা শুধু সেনার জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে না, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশ নীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে।

এনক্রিপ্টেড চ্যাট অ্যাপ ‘সিগনাল’-এ ইয়েমেনে হামলা সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা হয়েছিল। কিন্তু ভুল করে সেই চ্যাট গ্রুপে যুক্ত হয়ে যান সাংবাদিক জেফরি গোল্ডবার্গ। তাঁকে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজ ভুলবশত গ্রুপে যোগ করেন।

গত ১৫ মার্চ মার্কিন সেনারা ইয়েমেনে হামলা চালায়। তবে হামলা শুরুর দুই ঘণ্টা আগেই সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ওই চ্যাট গ্রুপে শেয়ার করা হয়েছিল।

সেই গোপন তথ্যের মধ্যে ছিল—
✔ হামলার সঠিক সময়
✔ কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে
✔ ঠিক কোন জায়গায় হামলা হবে

এছাড়াও, হুথিদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের নিরাপত্তা সচিব পিট হেগসেথ আগেই সাংবাদিককে দিয়ে দেন। ফলে যুদ্ধের যাবতীয় খুঁটিনাটি আগেভাগেই জেনে যান জেফরি গোল্ডবার্গ।

সেই গোপন চ্যাট গ্রুপে যুক্ত ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, সিআইএ ডিরেক্টর জন র‌্যাটক্লিফ, জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের ডিরেক্টর তুলসী গ্যাবার্ড-সহ একাধিক শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিক।

এই ভুল যে হয়েছিল, তা স্বীকার করেছে মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। কীভাবে একজন সাংবাদিক গোপন সামরিক পরিকল্পনার গ্রুপে যুক্ত হয়ে গেলেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

এক বিবৃতিতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউজ বলেছেন, “এই চ্যাট মেসেজগুলি সত্যিই আসল বলে মনে হচ্ছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”

তবে এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। তাঁদের মতে, এটি জাতীয় নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন এবং কংগ্রেসের উচিত তদন্ত করা।

সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মার্ক ওয়ার্নার বলেছেন, “এই প্রশাসন গোপন তথ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বহীন আচরণ করছে, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ক্রিস ডেলুজিও ও হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটি তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এমনকি রিপাবলিকানরাও এই ভুলের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেসম্যান ডন বেকন বলেন, “এ ধরনের গোপন তথ্য অনিরাপদ প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা মোটেও উচিত হয়নি। রাশিয়া ও চিন নিশ্চয়ই এসব নজরদারি করছে।”

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন প্রবল চাপের মুখে। জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুল করে সাংবাদিকের কাছে চলে যাওয়া মার্কিন প্রশাসনের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এখন দেখার, কংগ্রেস এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে।