‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’ সিরিজে নজর কাড়েন অভিনেতা শাহির রাজ… ! কেমন ছিল জার্নি? জানালেন নেটিজেনদের

‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’-এ একঝাঁক প্রতিভাবান বাঙালি অভিনেতা তাদের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন। রাজনৈতিক নেতা বরুণ রায়ের চরিত্রে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে গ্যাংস্টার শঙ্কর বড়ুয়ার ভূমিকায় শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়—প্রতিটি চরিত্রই দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে। আইপিএস অফিসার সপ্তর্ষি সিনহার চরিত্রে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং সাগর তালুকদারের ভূমিকায় ঋত্বিক ভৌমিকের অভিনয়ও প্রশংসা কুড়িয়েছে। পাশাপাশি, বাঙালি না হয়েও পুরোদস্তুর বাঙালিয়ানার ছোঁয়া নিয়ে হাজির হয়েছেন জিৎ, আইপিএস অর্জুন মৈত্রের চরিত্রে। এছাড়াও ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শাহির রাজ।
ইটিভি ভারত: এই সিরিজে কাজের সুযোগ কীভাবে এলো?
শাহির রাজ: এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে গোড়ায় ফিরে যেতে হবে। আমি কলকাতা ও মুম্বই—দুই শহরেই সময় কাটাই। তখন আমার জীবনেই এক বড় ধাক্কা লেগেছিল, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। ‘খাকি’-র প্রস্তাব আসার সময় আমি মুম্বইতে ছিলাম, এক নতুন শহরে, যেখানে খুব কম মানুষের সঙ্গেই আমার পরিচয় ছিল। প্রতিদিন আশা নিয়ে বের হতাম—কোনও পরিচিত মুখ হয়তো কাজের সুযোগ এনে দেবে। মুম্বইতে আমি থাকতাম আমার দাদা কৃষ্ণেন্দু রায় ও তাঁর স্ত্রী পৌলমী ঘোষ রায়ের বাড়িতে। ওরা না থাকলে ‘খাকি’ করা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না।
একদিন ১৪ তলার ফ্ল্যাট থেকে মুম্বই শহরটাকে দেখতে দেখতে ভাবছিলাম—এভাবে একা থাকা মানুষের জীবন কতটা কঠিন! কাজ নেই, টাকাও প্রায় শেষ। এমন সময়ে মানুষ হাল ছেড়ে দেয়। আমি শাহরুখ খানের ভক্ত। তাঁর একটা ডায়লগের বাংলা করলে দাঁড়ায়—”হার তখনই হয় যখন আমরা হার মানি…”। ঠিক এমনই মুহূর্তে ফোন এলো আরভ শুক্লার থেকে। তিনি কাস্টিং ডিরেক্টর। আমাকে অডিশন দিতে বললেন।
ইটিভি ভারত: চরিত্রটি করার পেছনে কারণ কী?
শাহির রাজ: চরিত্রটি ছিল একজন দূতের। দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় আমি মানসিকভাবে দুর্বল ছিলাম। এই সুযোগটা ছিল ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধারের মতো। পেশাদারি দিক থেকে বললে, নীরজ পাণ্ডের মতো নির্মাতার প্রোডাকশনে কাজ করা একটা বড় অর্জন। এছাড়াও দেবাত্মা মণ্ডল, যিনি ‘জাজ্ঞা জাসুস’-এর কো-রাইটার, তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও অসাধারণ ছিল।
ইটিভি ভারত: শুটিংয়ের স্মরণীয় মুহূর্ত?
শাহির রাজ: প্রথম দিনের শুটিংয়ের আগের রাতটা ভোলার নয়। আমার কলটাইম ছিল ভোর সাড়ে পাঁচটায়, কিন্তু আমি রাত দুটোয়ই সেটে পৌঁছে গিয়েছিলাম। বলিউডে প্রথম কাজ, তাই উত্তেজনায় ঘুমই হচ্ছিল না। সারা রাত জেগে কাটালাম।
আরেকটি স্পেশাল মুহূর্ত ছিল জিৎ দার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা। একসময় তাঁর ‘সঙ্গী’ ছবি আমি বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখতে গিয়েছিলাম। আজ সেই জিৎ দার সঙ্গে একই ফ্রেমে দাঁড়ানো—এ এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি! তিনি যেমন একজন সুপারস্টার, তেমনই অসম্ভব বিনয়ী।
ইটিভি ভারত: কে আপনাকে সবচেয়ে সাহায্য করেছিলেন?
শাহির রাজ: দেবাত্মা মণ্ডল। তিনি আমার স্কুলের সিনিয়র ছিলেন। তিনিই আমার নাম সুপারিশ করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন আমি পুরো প্রক্রিয়াটা নিজে উপলব্ধি করি, যেন শর্টকাট না হয়। তাঁর প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।
ইটিভি ভারত: অভিনয়ের প্রস্তুতি নিলেন কীভাবে?
শাহির রাজ: আমি ডায়লগকে বারবার চর্চা করি। একই সংলাপ দশ-বারো রকমভাবে বলার চেষ্টা করি, যাতে স্বাভাবিক মনে হয়। তুষার দা একদিন বলেছিলেন, “তুমি কত প্র্যাকটিস করো! এবার ছেড়ে দাও!” কিন্তু আমার এই নিষ্ঠা দেখে তিনি খুশি হয়েছিলেন।
ইটিভি ভারত: অভিনয় জগতে আপনার মূলমন্ত্র কী?
শাহির রাজ: সময়ের মূল্য দেওয়া। আমি কখনও দেরি করি না। আর, বড় হতে গেলে বিনয়ী হতে হয়—জিৎ দা, পরম দা, প্রসেনজিৎ দার মতো শিল্পীদের থেকে আমি এই শিক্ষাই পেয়েছি।
‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’ শুধু আমার ক্যারিয়ারেরই নয়, জীবনেরও এক বড় মাইলফলক। এই অভিজ্ঞতা আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে।