মেরঠ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন নতুন তথ্য সামনে: সাহিলের জুয়ার নেশা ও টাকার লোভ ঘটিয়েছিল এই ঘটনা

মেরঠ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুসকান রাস্তোগীর প্রেমিক সাহিল শুক্লা তার প্রেমিকার স্বামী সৌরভ রাজপুতের টাকা দিয়ে জুয়া খেলত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাহিল সেই টাকা ক্রিকেট ম্যাচে বাজি ধরতে ব্যবহার করত এবং জেতা টাকা মুসকানের সঙ্গে বিলাসবহুল জীবনযাপনে খরচ করত। সাহিল জুয়াড়িদের মাধ্যমে বাজি ধরত, যাদের পরিচয় এখনও তদন্তাধীন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, সাহিল জুয়ায় জেতা টাকা মুসকানের সঙ্গে ঋষিকেশ এবং দেরাদুন ভ্রমণের জন্য ব্যবহার করত। প্রতিবেদনে সাহিলের প্রতিবেশীদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, তার কোনো নিয়মিত চাকরি ছিল না এবং উপার্জনের কোনো নির্দিষ্ট উৎসও ছিল না। সে পুরোপুরি জুয়ার উপার্জনের উপর নির্ভরশীল ছিল। পুলিশ সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, সৌরভ প্রতি মাসে মুসকান এবং তাদের মেয়ের খরচ মেটানোর জন্য প্রায় ১ লক্ষ টাকা পাঠাতেন। মুসকান সেই টাকা সাহিলকে দিতেন, যিনি তা দিয়ে বাজি ধরতেন।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সাহিল বছরের পর বছর ধরে আইপিএল ম্যাচে বাজি ধরত। গ্রেফতারের আগে পর্যন্ত সে চলতি আইপিএল মরসুমে আরও বেশি টাকা বাজি ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সাহিল এবং মুসকানকে গ্রেফতার করা হয় যখন মুসকান তার স্বামী সৌরভকে হত্যার কথা স্বীকার করে। সৌরভ ছিলেন একজন মার্চেন্ট নেভি অফিসার। অভিযোগ অনুযায়ী, সাহিল এবং মুসকান সৌরভের দেহকে ১৫ টুকরো করে ফেলে রেখেছিল। মুসকানের বাবা-মা তাকে থানায় নিয়ে যান, যেখানে সে তার প্রেমিক সাহিলের সঙ্গে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে।

গ্রেফতারের পর সাহিল এবং মুসকানকে চৌধুরী চরণ সিং জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে। আদালত তাদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। কারাগারে তাদের অবস্থা নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দুজনই মানসিক চাপে ভুগছেন এবং ঠিকমতো ঘুম বা খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। কারাগারে তাদের মাদক প্রত্যাহারের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। যদিও কারও কারও মতে, এটি তাদের অপরাধবোধ বা অনুশোচনার ফল হতে পারে।

মুসকান এবং সাহিল একই ব্যারাকে থাকার আবেদন করেছিল, কিন্তু কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তা সম্ভব হয়নি। মুসকানের পরিবার তার উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুসকান সরকারি আইনজীবীর সাহায্য চেয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সাহিলের জুয়ার নেশা এবং টাকার লোভই মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, সাহিল এবং মুসকান সৌরভের টাকা দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করত এবং জুয়ার মাধ্যমে আরও টাকা উপার্জনের চেষ্টা করত। এই ঘটনায় সৌরভের পরিবার গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মেরঠ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশ সাহিল এবং মুসকানের জুয়া চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার কী হয়, তা নিয়ে সবার নজর এখন আদালতের দিকে।