“সব হিন্দু বেরোবে… ধর্মীয় সভায় সীমা কেন?”-রামনবমী নিয়ে ফের হুঙ্কার শুভেন্দু অধিকারীর

রামনবমীর মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যার উপর সীমাবদ্ধতা আরোপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার হলদিয়ার এক পথসভা থেকে তিনি এই বিষয়ে সরব হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের সীমা কেন? তাঁর বক্তব্যে তিনি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
শুভেন্দু বলেন, “শ্যামপুকুর থানা বলছে, রামনবমীর মিছিলে সর্বাধিক ২ থেকে আড়াই হাজার লোক থাকবে। ধর্মীয় শোভাযাত্রায় এমন সীমা? শ্যামপুকুরে ২ লক্ষ মানুষ থাকে। মিছিলে হাঁটবে মাত্র ২ থেকে আড়াই হাজার?” তিনি এই নিয়মকে একতরফা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জানান, “২ হাজার লোকের বেশি মিছিল নয়, ডিজে বাজবে না—এটা কি সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে? একতরফা কিছু হবে না।”
হিন্দুদের প্রতি সংঘবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “সব হিন্দু বেরোবে, কপালে তিলক লাগাবেন। আমাদের যদি রামমন্দিরের জন্য ১ লক্ষ ৭০ হাজার লোক শহিদ হতে পারে, তবে ধর্ম পালনের জন্য আমরা শহিদ হতে প্রস্তুত।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “রামনবমী হবে। ভাল করে শান্তিপূর্ণভাবে হবে। আমরা নিজের ধর্মে আস্থা রাখি, অপর ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু চুলকাবেন না, উস্কানি দেবেন না।”
শুভেন্দু অধিকারী এদিন আরও একটি ঘটনার প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, “কোচবিহারের আইসি কোতোয়ালি পরশু রাতে গিয়ে কীর্তন বন্ধ করিয়েছেন। এসব জিনিস চলবে না।” তিনি তৃণমূল সরকারকে হিন্দুবিরোধী আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, “মহাকুম্ভের কুম্ভস্নানে ভয় পেয়েছে। হিন্দুবিরোধী তৃণমূল ভয় পেয়েছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “ঐক্যবদ্ধ না হলে এই বাংলা বাংলাদেশে পরিণত হবে।” শুভেন্দুর এই বক্তব্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও হিন্দু ঐক্যের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তাঁর এই হুঙ্কারকে অনেকে আসন্ন রামনবমী উৎসবের প্রেক্ষাপটে হিন্দু সম্প্রদায়কে সংঘটিত করার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন।