স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে অশান্তি, লাইভে এসে স্বামীর আত্মহত্যা, ৪৪ মিনিট ধরে চুপচাপ দেখলেন স্ত্রী

স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জেরে পারিবারিক অশান্তির মধ্যে থাকা এক ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে লাইভে এসে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার আগে তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে গেছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলায়। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত স্ত্রী প্রিয়া শর্মা ও তার শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৬ বছর বয়সী শিব প্রকাশ ত্রিপাঠি গত ১৬ মার্চ ইনস্টাগ্রামে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। আরও চমকে দেওয়ার বিষয়, তাঁর স্ত্রী প্রিয়া শর্মা ৪৪ মিনিট ধরে এই লাইভ ভিডিও দেখেছেন, কিন্তু কাউকে সতর্ক করেননি বা স্বামীকে বাঁচানোর কোনও চেষ্টা করেননি।

পারিবারিক অশান্তি ও পরকীয়ার অভিযোগ
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিব প্রকাশ ত্রিপাঠি দুই বছর আগে প্রিয়া শর্মাকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের প্রথমদিকে সম্পর্ক ভালো থাকলেও, কয়েক মাস পর তিনি জানতে পারেন যে তাঁর স্ত্রী গোপনে অন্য একজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে তিনি বৈবাহিক সম্পর্ক বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরবর্তীতে একটি দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং চলাচলের জন্য ক্রাচের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই সময় প্রিয়া তাদের নবজাতক সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান।

ত্রিপাঠি একাধিকবার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। ঘটনার দিনও তিনি প্রিয়াকে বোঝাতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁকে অপমানিত ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বাড়ি ফিরে তিনি একটি ঘরে নিজেকে আটকে ইনস্টাগ্রামে লাইভ শুরু করেন। লাইভে তিনি স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

স্ত্রীর নীরবতা ও গ্রেপ্তার
আশ্চর্যজনকভাবে, প্রিয়া শর্মা ৪৪ মিনিট ধরে স্বামীর এই লাইভ দেখলেও কাউকে কিছু জানাননি। পরিবারের সদস্যরা ভিডিওটি দেখে পুলিশে খবর দেন। সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার উমেশ প্রজাপতি জানান, “তদন্তে প্রিয়া শর্মার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পারিবারিক বিরোধই এই আত্মহত্যার কারণ বলে মনে হচ্ছে।”

পুলিশ প্রিয়া শর্মা ও তাঁর মাকে গ্রেপ্তার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। ত্রিপাঠির ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট জব্দ করে আরও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শোরগোল
এই ঘটনা মধ্যপ্রদেশে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে আত্মহত্যা এবং স্ত্রীর নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়ে অনেকেই বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তদন্তে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ ও জনসাধারণ।