‘লাল ফিতের’ ফাঁসে আটকে প্রকল্প, রায়ডাকে কবে শুরু হবে সেতু নির্মাণ?

কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার রায়ডাক নদীতে জালধোয়া সেতু নির্মাণের প্রকল্প ‘লাল ফিতের’ জটিলতায় আটকে পড়েছে। সেচ দপ্তরের সেন্ট্রাল ডিজাইন অফিসে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ফাইল জমা থাকলেও কাজ শুরুর কোনও নিশ্চয়তা মিলছে না। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে ২০২৪-এর রাজ্য বাজেটে সেতু নির্মাণের ঘোষণা হলেও, আমলাতান্ত্রিক জটে সেই স্বপ্ন এখনও বিশ বাঁও জলে।

বিচ্ছিন্ন দ্বীপের দুর্দশা
স্বাধীনতার পর থেকে তুফানগঞ্জ মহকুমার রামপুর-১, রামপুর-২ এবং ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েত কোচবিহার জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন। রায়ডাক নদী এই তিন পঞ্চায়েতের এক লক্ষেরও বেশি বাসিন্দার পথে প্রধান বাধা। তুফানগঞ্জ বা কোচবিহার পৌঁছতে তাঁদের প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে আলিপুরদুয়ার হয়ে যেতে হয়। বিকল্প পথে বারোবিশা ও কামাখ্যাগুড়ি দিয়ে যাতায়াতও সময়সাপেক্ষ। নদীতে জল বেশি থাকলে নৌকো, আর শীতকালে জল কমলে সাঁকোই ভরসা।

প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাধা
গত বছর পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা শালডাঙা এলাকায় সেতুর সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। প্রায় ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর জন্য ১২০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হলেও, সেচ দপ্তরের অনুমতির অভাবে প্রকল্প এগোচ্ছে না। কোচবিহার হাইওয়ে ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুরজিৎ সরকার জানান, “সেতুর কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। সেচ দপ্তরের কাছ থেকে জলের গতি, পরিমাণ ও সেতুর উচ্চতা নির্ধারণের অনুমতি প্রয়োজন। তারপর ডিজাইন ও ডিপিআর তৈরি হবে।” তবে কবে কাজ শুরু হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও উত্তর মিলছে না।

স্থানীয়দের হতাশা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেতু না থাকায় তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে চরম অসুবিধা। রামপুরের বাসিন্দা অজিত দাস বলেন, “নদীর জলে নৌকো, শীতে সাঁকো—এভাবে কতদিন চলবে? সেতুর জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমরা হতাশ।” বিজেপি নেতা ও জেলা পরিষদ সদস্য সুশান্ত রাভা অভিযোগ করেন, “ভোটের সময় সেতুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু কাজ হয় না। এই সেতু হলে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও নিম্ন অসমের মানুষ উপকৃত হবে। এলাকার নিরাপত্তাও বাড়বে।”

মন্ত্রীর আশ্বাস
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ জানান, “সেতুর কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। আগামী অর্থবর্ষে কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি। কিছু টেকনিক্যাল বিষয়ে দেরি হচ্ছে।” তবে এই আশ্বাসে স্থানীয়দের অধৈর্য কমছে না।

দীর্ঘদিনের এই বিচ্ছিন্নতা দূর করতে জালধোয়া সেতু একমাত্র সমাধান। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায়, স্থানীয়দের মনে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমশ বাড়ছে।