OMG! গাড়ির সামনে দাঁতাল, গাড়ির ভেতরে বসে চিকিৎসক, তারপর …যা ঘটলো?

শনিবার বিকেলে লাটাগুড়ি জঙ্গলের মধ্যে মহাকাল ধামের কাছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দাঁতালের মুখোমুখি হয়েও বরাতজোরে প্রাণে বেঁচে গেছেন চিকিৎসক প্রসেনজিৎ দাস ও তাঁর এক স্বাস্থ্যকর্মী সহযোগী। প্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে তাঁরা এখনও সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তের কথা স্মরণ করছেন।
জাতীয় সড়কে দাঁতালের তাণ্ডব
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার বিকেলে, যখন লাটাগুড়ি-চালসাগামী জাতীয় সড়কে একটি পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে পড়ে। এর ফলে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উৎসাহী জনতা হাতিটির কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করলে দাঁতালটি বেশ কয়েকবার তাদের দিকে তেড়ে আসে। তবুও অনেকে নিষেধ না মেনে হাতির সামনে ভিড় জমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ‘ট্যুরিস্ট বন্ধু’ পুলিশ ভ্যান। দায়িত্বে থাকা অফিসার সুরজিৎ মল্লিক প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বেশ কয়েকজনকে হাতির সামনে থেকে নিরাপদে সরিয়ে আনেন।
তবে হাতিটি জাতীয় সড়ক ধরে প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে চলে। এর ফলে সড়কের দুই প্রান্তে শতাধিক গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে যায়। পুলিশ বারবার গাড়িগুলোকে পিছিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও কিছু গাড়ি হাতির কাছাকাছি চলে যায়। একপর্যায়ে হাতিটি জঙ্গলের দিকে মোড় নিলেও আচমকা ফিরে এসে গাড়ির দিকে তেড়ে আসে।
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন চিকিৎসক
এই সময় মালবাজার থেকে জলপাইগুড়ির দিকে ছোট গাড়িতে যাচ্ছিলেন মাল হাসপাতালের চিকিৎসক প্রসেনজিৎ দাস ও তাঁর এক স্বাস্থ্যকর্মী সহযোগী। হাতিটির সামনে পড়ে গাড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে দাঁতালটি তাঁর গাড়ির দিকে তেড়ে আসে। শুঁড়ের নাগালে গাড়ি পেয়েও আশ্চর্যজনকভাবে হাতিটি আক্রমণ থেকে বিরত থাকে। প্রসেনজিৎ ও তাঁর সহযোগী গাড়ি ফেলে দরজা খুলে দৌড়ে প্রাণে রক্ষা পান। গাড়িটিরও তেমন ক্ষতি হয়নি।
প্রসেনজিৎ পরে বলেন, “অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছি। বন্যপ্রাণীদের উত্ত্যক্ত না করলে তারা আক্রমণ করে না। উল্টোদিক থেকে গাড়ির হর্নের শব্দে বিরক্ত হয়ে হাতিটি তেড়ে এসেছিল। চাইলে গাড়িতে হামলা করতে পারত, কিন্তু আচমকা দাঁড়িয়ে পড়ে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বনকর্মীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
ওই পথের যাত্রীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘক্ষণ জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা দাঁতালটির কারণে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ‘ট্যুরিস্ট বন্ধু’ ভ্যান একাই পরিস্থিতি সামাল দেয়। তবে বনকর্মীদের প্রথমদিকে দেখা না মেলায় সমালোচনা উঠেছে। বনদপ্তর সূত্রে দাবি, জাতীয় সড়কে হাতি প্রায়ই চলে আসে। খবর পাওয়া মাত্রই বনকর্মীরা হাতিটিকে জঙ্গলের দিকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে। এদিন আচমকা হাতির পারাপারের কারণে এই বিপত্তি ঘটেছে।
এই ঘটনা বন্যপ্রাণীদের প্রতি সচেতনতা এবং জনসাধারণের অতি উৎসাহের ঝুঁকির কথা ফের সামনে এনেছে। প্রসেনজিৎ ও তাঁর সহযোগীর প্রাণে বাঁচা এদিন সবাইকে স্বস্তি দিলেও, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে আরও কঠোর ব্যবস্থার প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।