পাহাড়ে প্রবল তুষারপাত-সমতলে তুমুল বৃষ্টি, সাদা তুষারে ঢেকে গেলো সিকিম-সান্দাকফু

সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে প্রবল তুষারপাত। একইভাবে দার্জিলিংয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকফুতেও তুষারপাতের দৃশ্য দেখা গেছে। সাদা তুষারের চাদরে ঢেকে গেছে পাহাড়ি এলাকাগুলি। যখন সমতলে গরমের মরশুম শুরু হয়ে গেছে, তখন পাহাড়ে এই তুষারপাত পর্যটকদের জন্য অতিরিক্ত আনন্দের কারণ হয়ে উঠেছে। উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা বরফে ঢেকে গেছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাইকে তুষার নিয়ে খেলতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, সান্দাকফুতেও পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে।
তুষারপাতে উৎসবের আমেজ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে তুষারপাত শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শীত জাঁকিয়ে বসেছে। সান্দাকফুতে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমেছে, আর সোমগোতে তা ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছেছে। বছরের শুরু থেকেই সিকিমে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এই তুষারপাত তাদের জন্য একটি বাড়তি উপহার হয়ে উঠেছে। এক পর্যটক বলেন, “গরম থেকে বাঁচতে পাহাড়ে এসেছিলাম, তুষারপাত দেখে মন ভরে গেল।”
সমতলেও আবহাওয়ার পরিবর্তন
শনিবার সকাল থেকে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় মেঘলা আকাশ দেখা গেছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় সমতলে তাপমাত্রা ৫-৬ ডিগ্রি কমেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবার পর্যন্ত রাজ্যে টানা ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুধু বৃষ্টি নয়, কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রবল আর্দ্রতা এবং ট্রপোস্ফিয়ারে অনুকূল বায়ুপ্রবাহের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিন এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ডুয়ার্সে কালবৈশাখীর তাণ্ডব
ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় শনিবার কালবৈশাখীর দাপটে বড় বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। মালবাজার, ওদলাবাড়ি, চালসা, লাটাগুড়ি ও গজলডোবা এলাকায় ঝড়ের তাণ্ডব দেখা গেছে। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় একাধিক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রবিবার পর্যন্ত এমন আবহাওয়া চলতে পারে।
পর্যটকদের জন্য সতর্কতা
সিকিম ও সান্দাকফুতে তুষারপাতে পর্যটকদের উৎসাহ বাড়লেও, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি রাস্তায় তুষার জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
এই তুষারপাত ও সমতলের ঝড়বৃষ্টি একদিকে প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুললেও, অন্যদিকে জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। আগামী দিনে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি কী হবে, সেদিকে নজর রাখছে সকলে।