ওজন ঝরবে মাত্র একটি ইনজেকশনে, দাম কত?-ওজন কমানোর নয়া ওষুধ ভারতের বাজারে

পশ্চিমী দেশগুলির পাশাপাশি এশিয়ার একাধিক দেশে জনপ্রিয়তা অর্জনের পর এবার ভারতের মাটিতে পা রাখল মার্কিন বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ইলাই-লিলির অ্যান্টি-ওবেসিটি ড্রাগ ‘মৌনজারো’। বৃহস্পতিবার সংস্থার তরফে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর প্রকাশ্যে আনা হয়। কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিডিএসসিও) সম্প্রতি এই ওষুধটির ব্যবহারে ছাড়পত্র দিয়েছে, যা ভারতের স্থূলত্ব ও ডায়াবিটিসে আক্রান্ত লাখো মানুষের জন্য নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।

মৌনজারোর বিশেষত্ব

টিরজে়পাটাইড গোত্রের এই ওষুধটি শুধু স্থূলত্ব ও অতিরিক্ত ওজন কমায় না, ব্লাড সুগারের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে বলে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রমাণিত হয়েছে। এটি একটি সাপ্তাহিক ইঞ্জেকশন, যা গ্লুকোজ-নির্ভর ইনসুলিনোট্রপিক পলিপেপটাইড (জিআইপি) এবং গ্লুকাগন-লাইক পেপটাইড-১ (জিএলপি-১) রিসেপ্টরকে সক্রিয় করে কাজ করে। এর ফলে ক্ষুধা কমে, খাবার গ্রহণের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং শরীরের চর্বি কমতে শুরু করে।

দামে বড় পরিবর্তন

এতদিন ভারতে মৌনজারো সরাসরি পাওয়া যেত না। অনেক উচ্চবিত্ত রোগী এই ওষুধটি ইউরোপ, আমেরিকা বা দুবাই থেকে আমদানি করে ব্যবহার করতেন, যার জন্য মাসিক খরচ ২০-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতো। গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে ইলাই-লিলি মৌনজারোর দাম কমালে ২.৫ মিলিগ্রাম ও ৫ মিলিগ্রাম ভায়ালের মাসিক খরচ ভারতীয় মুদ্রায় যথাক্রমে ১৪ হাজার ও ১৭ হাজার টাকায় নেমে আসে। তবে এবার ভারতে সরাসরি বিপণন শুরু হওয়ায় দাম আরও কমে দাঁড়িয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ২.৫ মিলিগ্রাম ভায়ালের দাম ৩,৫০০ টাকা এবং ৫ মিলিগ্রাম ভায়ালের দাম ৪,৩৭৫ টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহে একটি ইঞ্জেকশন হিসেবে মাসিক খরচ এখন ১৪,০০০ থেকে ১৭,৫০০ টাকার মধ্যে থাকবে।

ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ১৫-৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ১৯% পুরুষ এবং ১৮% মহিলার ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ কেজি বা তার বেশি। এছাড়া, এই বয়সীদের মধ্যে ৪% পুরুষ এবং ৬.৪% মহিলা স্থূলত্ব বা ওবেসিটির শিকার। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা দেশে ডায়াবিটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। হাঁটা, দৌড়, জিম বা ডায়েটিংয়ের মাধ্যমেও অনেকে ওজন কমাতে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন। মৌনজারোর আগমন তাঁদের জন্য একটি নতুন সমাধান হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতামত

চিকিৎসক মহলে মৌনজারোর ভারতীয় বাজারে প্রবেশকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কলকাতার একজন বিশিষ্ট এন্ডোক্রিনোলজিস্ট বলেন, “মৌনজারো শুধু ওজন কমায় না, ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণেও অত্যন্ত কার্যকর। এটি ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। তবে এটি ব্যবহারের আগে রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে।” সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে বমি বমি ভাব, পেটে অস্বস্তি বা ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিতে পারে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ইলাই-লিলির এই উদ্যোগ ভারতের স্থূলত্ব ও ডায়াবিটিসে আক্রান্তদের জন্য সাশ্রয়ী ও কার্যকর চিকিৎসার দ্বার উন্মোচন করেছে। সংস্থার ভারতীয় শাখার প্রেসিডেন্ট উইনসলো টাকার বলেন, “আমরা ভারত সরকার ও স্বাস্থ্যসেবা শিল্পের সঙ্গে মিলে এই রোগগুলির প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনার জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” আগামী দিনে এই ওষুধটি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছলে ভারতের স্বাস্থ্য চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।