অতুল সুভাষ কাণ্ডের ছায়া, স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ, আত্মঘাতী যুবক

স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে আত্মহত্যা করেছেন ২৬ বছর বয়সী যুবক বালক রাম। বৃহস্পতিবার তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় শ্বশুরবাড়ির একটি ঘর থেকে। এই ঘটনা বেঙ্গালুরুর ইঞ্জিনিয়ার অতুল সুভাষ এবং আগ্রার টিসিএস কর্মী মানব শর্মার আত্মহত্যার পর সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের তৃতীয় ঘটনা। তবে এবারের ঘটনায় নতুনত্ব এই যে, বালক রাম শ্বশুরবাড়িতেই গলায় শাড়ির ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বালক রাম মৃত্যুর আগে ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করেছিলেন। সেই ভিডিয়োতে তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী সুধার কোনও অধিকার নেই। এরা আমায় মেরে ফেলার চেষ্টা করছে। আমি এখন শ্বশুরবাড়িতে। এবার দেখুন।” এই ভিডিয়োর পরই তাঁকে ঘরের সিলিং থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বালক ও সুধার বিয়ে হয়েছিল আট বছর আগে এবং তাঁদের দুটি মেয়ে রয়েছে।

ঘটনার দিন বালক রাম তাঁর স্ত্রী সুধাকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। বালকের বাবা রাম প্রকাশ পুলিশকে জানিয়েছেন, ১৫ দিন আগে সুধা বাপের বাড়ি গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মানসিক অত্যাচারের কারণেই তাঁর ছেলেকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

পুলিশের তৎপরতা ও ময়নাতদন্ত
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তড়িঘড়ি বালক রামকে উদ্ধার করে ঝাঁসির মহারানি লক্ষ্মীবাই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঝাঁসির পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) গোপীনাথ সোনি জানিয়েছেন, “মৃতদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর এবং পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে এবং ভিডিয়োটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করছে।

পরিবারের অভিযোগ
বালকের বাবা রাম প্রকাশ পুলিশকে জানান, “আমার ছেলে সুধাকে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিল। আমাকে বলা হয়েছিল গ্রামের প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে যেতে, যদিও কোনও বিবাদ ছিল না। পরে খবর পাই, আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে।” তিনি অভিযোগ করেছেন যে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ছেলেকে হুমকি দিয়ে এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এই পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রবণতা
এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগে আত্মহত্যার তৃতীয় ঘটনা। বেঙ্গালুরুতে ইঞ্জিনিয়ার অতুল সুভাষ এবং আগ্রায় টিসিএস কর্মী মানব শর্মাও একই ধরনের অভিযোগ তুলে আত্মঘাতী হয়েছিলেন। তবে ঝাঁসির এই ঘটনায় শ্বশুরবাড়িতেই আত্মহত্যার বিষয়টি তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ভিডিয়োর তথ্য বিশ্লেষণের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে, সুধার পরিবার এই ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা চলছে।