“সামাজিকমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ”-এবার ভারত সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে ইলন মাস্কের এক্স

বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের একজন ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স ভারত সরকারের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সেন্সরশিপ নিয়ে উদ্ভূত বিতর্কের জেরে এই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এক্সের অভিযোগ, ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর ক্রমবর্ধমান সেন্সরশিপ আরোপ করছে, যা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। গত ৫ মার্চ কর্ণাটকের একটি আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানা গেছে।
ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন এক্স দাবি করেছে, ভারত সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই পদক্ষেপগুলো সামাজিক মাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে, যার মাধ্যমে সরকারি দপ্তরগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো পোস্ট ব্লক করার জন্য নোটিশ জারি করতে পারবে। এক্সের অভিযোগ, এই ব্যবস্থা চরম সেন্সরশিপের একটি রূপ, যা সরকারকে তাদের অপছন্দের যেকোনো কনটেন্ট সহজেই ব্লক করার ক্ষমতা দিচ্ছে। এটি একটি সামাজিক মাধ্যম সংস্থা হিসেবে এক্সের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে তারা আদালতে জানিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে এই মামলার প্রাথমিক শুনানি হয়েছে। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ২৭ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেছে।
এদিকে, ইলন মাস্ক সম্প্রতি জানিয়েছেন যে ভারতে টেসলা এবং স্টারলিংকের ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মুম্বাইয়ে টেসলার জন্য কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপনও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া, স্টারলিংকের জন্য জিও এবং ভারতীয় এয়ারটেলের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে ভারত সরকারের সঙ্গে এখনও চূড়ান্ত কোনো চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।
অন্যদিকে, শুল্ক নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আগামী ২ এপ্রিল থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ভারত আমেরিকান পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করে, যার জবাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ইস্যুতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও সমাধানসূত্র মেলেনি।
এই পরিস্থিতিতে এক্স-এর এই মামলা ভারত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেন্সরশিপ, ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং শুল্ক বিতর্কের মধ্যে এই আইনি লড়াই ভারতের সঙ্গে ইলন মাস্কের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।