পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি কর্মীদের টার্গেট বেঁধে দিলেন শুভেন্দু, পাল্টা কটাক্ষ দেগেছে তৃণমূল

এক বছর পরেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচনের আগে বিজেপি কর্মীদের টার্গেট বেঁধে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার তমলুকে এক জনসভায় বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য ১৮০ আসন নির্ধারণ করেন তিনি। এর পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেসও পাল্টা কটাক্ষ করেছে শুভেন্দুর এই টার্গেটকে।
শুভেন্দুর ১৮০ আসনের টার্গেট
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এ রাজ্যের সনাতনীরা তখনই মুক্তি পাবেন, যখন মুখ্যমন্ত্রী প্রাক্তনী হবেন। তাই শপথ নিন, যেরকমভাবে এখান থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দুটি লোকসভা দিয়েছেন আপনারা, সেরকমভাবেই বিধানসভায় ১৮০টি আসন দিতে হবে। তাহলেই মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন এবং এ রাজ্যের হিন্দুরা শান্তিপূর্ণভাবে সবকটি হিন্দু অনুষ্ঠান, রীতিনীতি মেনে চলতে পারবেন।”
তৃণমূলের কটাক্ষ
শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষ, দেবাংশু ভট্টাচার্য এবং নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক একে একে পাল্টা কটাক্ষ করেন। ফেসবুকে দেবাংশু ভট্টাচার্য লেখেন, “২০০-র টার্গেট দিয়ে যারা ৭৭ পায়, ৩৫-এর টার্গেট দিয়ে যারা ১২ পায়, ১৮০-র টার্গেট সেট করে তারা ফাইনালি কত পেতে পারে?”
দেবাংশু আরও বলেন, “২০০-র ৭৭ হল প্রায় ৩৮ শতাংশ, ৩৫-এর ১২ হল ৩৪ শতাংশ। সুতরাং, ১৮০-র ৩৮ শতাংশ হলে ৬৮টি আসন, আর লোকসভার ট্র্যাক রেকর্ড ধরলে ১৮০-র ৩৪ শতাংশ মানে ৬১টি আসন।”
এছাড়া কুণাল ঘোষ শুভেন্দুর টার্গেট প্রসঙ্গে বলেন, “লোকে টার্গেট বাড়ায়, এরা টার্গেট কমাচ্ছে।”
বিজেপির তৎপরতা ও তৃণমূলের প্রস্তুতি
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০০ আসনের টার্গেট করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ৭৭টি আসনেই জিততে সক্ষম হয়। এরপর গত বছর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ আসনের টার্গেট বেঁধে দিয়েছিলেন। এবার সেই টার্গেট ১৮০ আসনে দাঁড়িয়ে গেল।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৪ আসন পেয়েছিল, এবং এবারও তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। বিজেপির ধর্মীয় নির্যাতন ও সনাতনীদের আক্রমণের অভিযোগের মুখে তৃণমূল নেতারা বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে চলেছেন।
বিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি
এদিকে, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন আরও বাড়ছে। শুভেন্দু অধিকারী আগামী দিনে রামপুরহাটে বিক্ষোভ কর্মসূচি ডাক দিয়েছেন। সেখানে তিনি রামপুরহাট মহকুমাশাসকের অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করবেন।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, এবং দুই দলই নিজেদের শক্তি বাড়ানোর জন্য ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।