চিনের সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে, পেন্টাগনের গোপন পরিকল্পনা র তথ্য হাতে এল মাস্কের, কী আছে তাতে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও কোটিপতি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক চিনের সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে পেন্টাগনের গোপন পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত হতে পারেন বলে জল্পনা তুঙ্গে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মাস্ক অংশ নিতে পারেন, যেখানে চিনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

শুক্রবার প্রতিরক্ষা দপ্তরের অফিস পরিদর্শন করার কথা রয়েছে ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির (DOGE) প্রধানের, যেখানে মাস্কও উপস্থিত থাকতে পারেন। ওই গোপন ব্রিফিংয়ে ২০-৩০টি স্লাইড রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে মার্কিন সেনাবাহিনী কীভাবে চিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, তার বিস্তারিত কৌশল দেওয়া হয়েছে। এতে কোন লক্ষ্যবস্তুকে কত সময়ে আঘাত হানা হবে, তার বিকল্প পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যদিও হোয়াইট হাউস বা ইলন মাস্ক কেউই তাঁর পেন্টাগন সফর নিশ্চিত করেননি, প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, “শুক্রবার ইলন মাস্ককে পেন্টাগনে স্বাগত জানাতে আমরা উত্তেজিত। প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং এটি শুধুই একটি সফর।” তবে এই সফর ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনে মাস্কের ভূমিকা নিয়ে।

টেসলা ও স্পেসএক্সের মালিক মাস্ক বর্তমানে মার্কিন সরকারের ব্যয় কমানোর দায়িত্বে রয়েছেন। ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তাঁর দুর্নীতি রোধের প্রচেষ্টার জন্যই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে এবং টেসলাকে ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, “আমি প্রতারণা বন্ধ করতে চাইছি, তাই তারা টেসলাকে আঘাত করতে চাইছে। খারাপ মানুষরা সবসময় খারাপ কাজই করে।”

ট্রাম্প প্রশাসনে সরকারি ব্যয় কমানোর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই মাস্কের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর ভাষায়, “সরকারি অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধের চেষ্টাই আমার বিরুদ্ধে চক্রান্তের কারণ।”

এই সফরের ফলে মার্কিন-চিন সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন প্রশ্ন, মাস্ক সত্যিই এই গোপন পরিকল্পনার অংশ হবেন, নাকি এটি নিছকই কল্পনা? সময়ই দেবে তার উত্তর।