দালালদের হাত শক্ত করছেন, আলুর দাম বাড়ানোর কথা বলতেই বিতর্কে দলের নেতা

আলুর দর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। সহায়ক মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে সরব চাষিরা, কিন্তু সেই দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিলেন তৃণমূল কিষাণ ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের রাজ্য সভাপতি পূর্ণেন্দু বসু। তাঁর বক্তব্যে হতাশ আদিবী তৃণমূল নেতা তথা আলু চাষিরা, যাঁদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কেজি প্রতি ৯ টাকা সহায়ক মূল্য একেবারেই অপ্রতুল।
সহায়ক মূল্য বাড়ানোর দাবি
জেলার বহু আলু চাষি দীর্ঘদিন ধরেই সহায়ক মূল্য ৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১৩ টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাসায়নিক সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, ফলে আলু চাষে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিপিএম-সহ বামপন্থী কৃষক সংগঠনগুলিও এই দাবিকে সমর্থন করে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার জলপাইগুড়িতে আয়োজিত তৃণমূল কিষাণ ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের জেলা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পূর্ণেন্দু বসু। সেখানেই আলু চাষিদের পক্ষ থেকে সহায়ক মূল্য বাড়ানোর দাবি ওঠে। ধনরঞ্জন সরকার, হরেকৃষ্ণ মজুমদার, অমল রায়ের মতো চাষিরা স্পষ্টই জানান, ৯ টাকা অত্যন্ত কম, সরকার যদি সহায়ক মূল্য বাড়ায় তবে চাষিরা উপকৃত হবেন।
পূর্ণেন্দু বসুর পাল্টা মতামত
তবে এই দাবিকে সমর্থন করেননি পূর্ণেন্দু বসু। তিনি সাফ জানান, সহায়ক মূল্য বাড়ানোর কোনও প্রয়োজন নেই, কারণ সরকার সবদিক বিবেচনা করেই কেজি প্রতি ৯ টাকা নির্ধারণ করেছে। তিনি আরও বলেন, “যাঁরা সহায়ক মূল্য বাড়ানোর দাবি করছেন, তাঁরা আসলে দালালদের হাত শক্ত করছেন।”
তৃণমূল চাষিদের হতাশা
পূর্ণেন্দু বসুর এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন তৃণমূলপন্থী চাষিরাও। দলেরই পুরনো নেতা আতিপুল হক, সোলেমান আলীদের মতো আলু চাষিরা এই সিদ্ধান্তে হতাশ। তাঁদের মতে, আলু চাষে উৎপাদন খরচ মারাত্মক বেড়েছে, অথচ সরকার সেই অনুযায়ী সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করছে না। তাঁদের বক্তব্য, “আমরা দালাল নই, আমরা চাষি। সহায়ক মূল্য বাড়ানো হলে সাধারণ কৃষকদেরই উপকার হবে।”
রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক
পূর্ণেন্দু বসুর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। সিপিএমের প্রাক্তন জেলা সম্পাদক সলিল আচার্য্য বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট— আলুর সহায়ক মূল্য ন্যূনতম ১৩ টাকা করতে হবে, নাহলে কৃষকের হাতে টাকা আসবে না।”
বিজেপিও এই সুযোগে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছে। বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামল রায় বলেন, “তৃণমূলের সিন্ডিকেট কৃষি উপকরণ, বিশেষত রাসায়নিক সার নিয়ে কালোবাজারি চালাচ্ছে। ফলে চাষের খরচ বেড়েছে। এই অবস্থায় আলুর সহায়ক মূল্য অন্তত ১৫ টাকা না করলে বহু কৃষক ঋণের দায়ে জর্জরিত হবেন, এবং অতীতে যেভাবে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, ভবিষ্যতেও তাই হবে।”
আলুর দর নিয়ে চাষিদের অসন্তোষ, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং বিরোধী দলগুলোর সমালোচনায় রাজ্যের কৃষি নীতির ওপর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এখন দেখার, রাজ্য সরকার এই ইস্যুতে কী পদক্ষেপ নেয়।