এই সালের চৈত্র অমাবস্যা কবে? জেনেনিন দিনক্ষণ ও পুজোর পদ্ধতি

২০২৫ সালের মার্চ মাসের অমাবস্যা, যা চৈত্র অমাবস্যা নামে পরিচিত, পালিত হবে ২৯ মার্চ, শনিবার। এই দিনটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ। চৈত্র অমাবস্যার দিনে ভগবান বিষ্ণু ও ভগবান শিবের পুজো করা হবে। এই দিনে গঙ্গাস্নান, তিল, লাড্ডু ও তেল দানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

চৈত্র অমাবস্যার তাৎপর্য:

চৈত্র অমাবস্যা হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের শেষ দিন। এই দিনটি পিতৃদোষ ও কালসর্প দোষ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়। এদিন পবিত্র নদীতে স্নান করে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ ও প্রার্থনা করা হয়। এছাড়াও, দরিদ্রদের দান করা এবং ভগবান বিষ্ণুর পুজো করার মাধ্যমে পুণ্য অর্জনের রীতি রয়েছে।

পঞ্জিকা অনুসারে সময়:

পঞ্জিকা মতে, চৈত্র অমাবস্যা তিথি শুরু হবে ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ, সন্ধ্যা ০৭:৫৫ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৯ মার্চ, বিকাল ০৪:২৭ মিনিটে। এই সময়ের মধ্যে অমাবস্যার পুজো ও অন্যান্য রীতি পালন করা শুভ বলে মনে করা হয়।

পুজোর পদ্ধতি:

চৈত্র অমাবস্যার দিনে পুজোর জন্য বিশেষ কিছু নিয়ম অনুসরণ করা হয়। প্রথমে স্নান করে মন্দির পরিষ্কার করতে হবে। এরপর গণেশকে প্রণাম করে পঞ্চামৃত ও গঙ্গাজল দিয়ে ভগবান বিষ্ণুর অভিষেক করতে হবে। ভগবানকে হলুদ চন্দন ও হলুদ ফুল নিবেদন করার পর মন্দিরে ঘি প্রদীপ জ্বালিয়ে শ্রী বিষ্ণু চালিশা পাঠ করতে হবে। পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে ভগবান বিষ্ণুর আরতি করার পর তুলসী পাতা দিয়ে প্রসাদ অর্পণ করে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

শুভ ফল লাভের উপায়:

চৈত্র অমাবস্যার দিনে পবিত্র নদীতে স্নান করা, পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা এবং দরিদ্রদের দান করার মাধ্যমে পুণ্য লাভ করা যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। এদিন উপবাস রাখলে শারীরিক ও মানসিক ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি আসে।

বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি:

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে যে, চৈত্র অমাবস্যায় স্নান ও দান করলে পূর্বপুরুষরা সুখ ও সমৃদ্ধির সঙ্গে মোক্ষ লাভ করেন। এদিন ভগবান বিষ্ণুর পুজো করলে জীবনের সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং পরিবারে শান্তি ও সম্পদ আসে।

শেষ কথা:

চৈত্র অমাবস্যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে স্নান, দান, পুজো ও উপবাসের মাধ্যমে পুণ্য অর্জনের পাশাপাশি পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। ২০২৫ সালের ২৯ মার্চ, শনিবার এই পবিত্র দিনটি পালিত হবে, যা ভক্তদের জন্য আধ্যাত্মিক শান্তি ও মঙ্গল বয়ে আনবে।