কুকুরের মাংস দিয়ে তৈরী মোমো, তল্লাশি চালাতেই মিলল কাটা মুণ্ডও! চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে

বিকেল হলেই কি মনটা মোমোর জন্য ছটফট করে? তাহলে এই খবরটা পড়ে মোমোর প্রতি আপনার ভালোবাসা একটু হলেও কমে যেতে পারে। চিকেন মোমোর ভিতরে যে মাংস দেওয়া হচ্ছে, তা মুরগির নয়, কুকুরের! দিনের পর দিন বিভিন্ন দোকানে এই মোমো বিক্রি হয়েছে, আর লোকজন তা বিশ্বাস করেই খেয়ে গেছে। সম্প্রতি একটি মোমো তৈরির কারখানায় অভিযান চালাতেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য—মিলল কুকুরের কাটা মাথা।
করোনার সময় কলকাতায় পঠানো মাংসের বদলে কুকুরের মাংস বিক্রির ঘটনায় হইচই পড়ে গিয়েছিল। এবার সেই দুঃস্বপ্ন ফিরে এল পঞ্জাবে। মোহালির মাট্টুরে একটি ফাস্ট ফুড কারখানায় পুরসভার মেডিক্যাল টিম খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা যাচাই করতে গিয়ে যা দেখল, তাতে তারা হতবাক। ফ্রিজ খুলতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল কুকুরের কাটা মাথা। পাশাপাশি পাওয়া গেল প্যাকেটে ভরা পচা খাবার।
স্থানীয়রা পুরসভায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তবে কারখানার ভিতরে এমন ভয়ঙ্কর কাণ্ড চলছে, তা তাঁরা কল্পনাও করেননি। তাঁদের অভিযোগ ছিল মূলত অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ে। নোংরা জল আর পচা সবজির ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন তাঁরা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুরসভার টিম ওই কারখানায় তল্লাশি চালায়, যেখানে মোমো ও স্প্রিং রোল তৈরি হত।
অভিযানে পাওয়া গেল নিম্নমানের পচা খাবার আর মাংস। ফ্রিজ খুলতেই আধিকারিকদের চোখ ছানাবড়া—ভিতরে রাখা একটি পাগ প্রজাতির কুকুরের মাথা! এরপরই এলাকায় হইচই পড়ে যায়। যদিও কারখানার কর্মীরা দাবি করেছেন, ওই মাংস মোমোতে ব্যবহার করা হত না। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নেপালি কর্মী নাকি নিজেদের খাওয়ার জন্য কুকুরের মাংস রাখতেন।
জানা গেছে, এই কারখানা থেকে মোমো ও স্প্রিং রোল চণ্ডীগড়, পঞ্চকুলা ও কালকায় সরবরাহ করা হত। অভিযানে প্রচুর পরিমাণে জমা মাংস, ব্যবহৃত তেল এবং ক্রাশার মেশিন উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাংস পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। ল্যাবের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে, মোমোর পুরে সত্যিই কুকুরের মাংস ব্যবহার করা হত কি না। ততক্ষণ পর্যন্ত মোমো-প্রেমীদের মনে একটা খটকা থেকেই যাচ্ছে!