স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় মারা গেলেন স্বামীও, শোকে গোটা পরিবার

স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে কাজ থেকে দ্রুত মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন সঞ্জয় নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিনি জীবিত অবস্থায় বাড়ি পৌঁছতে পারলেন না। উত্তরপ্রদেশের মীরগঞ্জে ২৪ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-তে, পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে সঞ্জয় (২৮) তাঁর ছোট ভাই রিঙ্কু (২২)-এর সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পাঞ্জাবে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা সঞ্জয় স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তড়িঘড়ি বহরাইচের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু বরেলির কাছে ২৪ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি অজ্ঞাত গাড়ি—সম্ভবত ট্রাক—তাঁদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই সঞ্জয়ের মৃত্যু হয়, আর রিঙ্কু গুরুতর আহত অবস্থায় বরেলির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ সুপার (উত্তর) মুকেশ চন্দ্র মিশ্র জানান, “সঞ্জয় বহরাইচের কাইজারগঞ্জ থানা এলাকার রামুয়াপুর রঘুবীর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পাঞ্জাবে শ্রমিকের কাজ করতেন। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু বরেলির কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।” তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা সঞ্জয়কে মৃত ঘোষণা করেন। রিঙ্কুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। সঞ্জয়ের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।”
স্ত্রীর মৃত্যু ও দুর্ঘটনা
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় সঞ্জয়ের স্ত্রী পূজার মৃত্যু হয়। পূজা দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় হাসপাতালে প্রাণ হারান। এই খবর পেয়ে সঞ্জয় দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং তৎক্ষণাৎ ভাই রিঙ্কুকে নিয়ে পাঞ্জাব থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। মোটরসাইকেলটি সঞ্জয় নিজেই চালাচ্ছিলেন, পেছনে বসেছিলেন রিঙ্কু। কিন্তু বরেলির কাছে ট্রাকের ধাক্কায় দুজনেই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পরিবারের ট্র্যাজেডি
সঞ্জয় ও পূজার বিয়ে হয়েছিল ছয় বছর আগে। তাঁদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দুদিন আগে সন্তানসম্ভবা পূজাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের আনন্দে মেতেছিল পরিবার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় পূজার মৃত্যুর খবরে সেই আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে রূপ নেয়। এরপর সঞ্জয়ের মৃত্যু পরিবারের উপর আরও বড় আঘাত হয়ে এসেছে।
পুলিশের তদন্ত
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও দায়ী গাড়িটি খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ সুপার মিশ্র বলেন, “এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা দ্রুততম সময়ে দায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।”
শোকের ছায়া
এই ঘটনায় সঞ্জয়ের গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই দিনে স্ত্রী ও স্বামীর মৃত্যু এবং ছোট ভাইয়ের জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই পরিবারের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, সঞ্জয় ও পূজার চার বছরের মেয়েটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
এই ট্র্যাজেডি উত্তরপ্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এবং দ্রুতগতির যানবাহনের ঝুঁকির কথা আরও একবার সামনে এনেছে।